প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ২৩। গত মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ঘটে যাওয়া একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতির এজলাস ত্যাগ করার বিষয়টি বুধবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং প্রধান বিচারপতির মধ্যে বাদানুবাদের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি সংসদের নজরে আনেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান জানান, একজন আইনজীবীর সত্য গোপন করে রিট করার দায়ে জরিমানার ঘটনা থেকে এই বিতর্কের সূত্রপাত। তিনি বলেন, বিচার বিভাগ জনগণের ন্যায়বিচারের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার অতীতে ঘটে যাওয়া দুঃখজনক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান ঘটনাটি কোনো অশুভ বার্তা দিচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান তিন অঙ্গের মধ্যে পারস্পরিক প্রভাব বিস্তার না করার নীতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য দাবি করেন।
জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আলোচনার দাবি রাখে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গ নয়, এটি একটি ইনফরমাল বডি। তবে এই ঘটনাকে তিনি বৈধতা দিচ্ছেন না বলে স্পষ্ট করেন। আইনমন্ত্রী আরও জানান, প্রধান বিচারপতি বুধবার যথাসময়ে তার কার্যক্রমে ফিরে এসেছেন এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীও স্বাভাবিকভাবে মামলা পরিচালনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না।
এ সময় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য ফ্লোর চাইলে স্পিকার জানান যে, আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যাই যথেষ্ট। একপর্যায়ে বিচার বিভাগীয় বিষয়ে আলোচনার অনুপযোগিতা নিয়ে স্পিকারের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সংসদে হৈ-চৈ শুরু হয় এবং স্পিকার তার মাইক বন্ধ করে দেন।

