গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়ছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এই দেশটিতে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মীরা একদিকে যেমন ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ইতিকিয়া ট্রিটমেন্ট সেন্টারের নার্স সোফি এমওয়াদাওয়া কাবুন্দো জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বাড়ছে এবং সংক্রমণের ভয়ে তারা সবসময় আতঙ্কিত থাকেন। তার ভাষ্যমতে, সহকর্মীদের মৃত্যুর ঘটনা তাদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
একই সেন্টারের স্বাস্থ্যকর্মী মার্টিন বোলোম্বি জানান, মে মাস থেকে কাজ করলেও তিনি শুধুমাত্র জুনের বেতন পেয়েছেন। গত মাসে বেতন বকেয়া থাকার প্রতিবাদে প্রায় ১০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী বিক্ষোভ করেছিলেন। বোলোম্বি বলেন, সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার পরও পারিশ্রমিক না পাওয়াটা খুবই হতাশাজনক। সোফি কাবুন্দোও একই সমস্যার কথা উল্লেখ করে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জাতিসংঘের ইবোলা বিষয়ক সমন্বয়কারী জুলিয়েন হার্নিস জানিয়েছেন, ফ্রান্সে চেয়েও বড় এলাকা জুড়ে এই প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ২৫০০-এরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং ১৬০ জন স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান তহবিল কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে এবং প্রাদুর্ভাবের গতি মোকাবিলা করার সক্ষমতা কমে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা করছে, এটি ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, যেখানে ২৮৬০০ জন আক্রান্ত এবং ১১৩২৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
বর্তমানে ভাইরাসটি কঙ্গোর ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ইতুরি প্রদেশে ৪২০০-এর বেশি নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে। উগান্ডায় ২০ জন আক্রান্ত ও দুইজনের মৃত্যু হলেও, ২৮ জুলাই দেশটি ইবোলা-মুক্ত ঘোষণা করা হয়, কারণ ১৬ জুলাই সর্বশেষ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে দেশটিতে বিরল 'বুন্দিবুগিও' প্রজাতির ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, যার কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা নেই। স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, লজিস্টিক সহায়তা কিছুটা বাড়লেও পরিস্থিতির ভয়াবহতার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। এছাড়া ভুল তথ্য, সামাজিক অবিশ্বাসের কারণে রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মেডিসিন সঁ ফ্রঁতিয়ের ডেপুটি মেডিকেল কো-অর্ডিনেটর ডা. এডি কাম্বালে কাহান্দুকিয়া জানান, আক্রান্তরা লুকিয়ে থাকায় নতুন নতুন ক্লাস্টার তৈরি হচ্ছে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা।
ইতুরি প্রদেশটি এই প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ইবোলা মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের তরল থেকে ছড়ায় এবং সঠিক সচেতনতার অভাবে মানুষ চিকিৎসা নিতে ভয় পাচ্ছে, যার ফলে গুজবের ডালপালা মেলছে।

