তুরস্কের খ্যাতনামা সমাজসেবক ওসমান কাভালার কারাদণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশটির বিচার ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত (ইসিএইচআর)। ফ্রান্সভিত্তিক এই আদালত জানিয়েছে, কাভালার কারাদণ্ড তুরস্কের বিচার বিভাগে একটি ‘পদ্ধতিগত সমস্যা’র বহিঃপ্রকাশ, যেখানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে আটক ও বিচার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
৬৮ বছর বয়সী ওসমান কাভালা শান্তি ও সংলাপ প্রসারে কাজ করা একটি অলাভজনক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৩ সালের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং ২০১৬ সালের ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের চেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২২ সালে তাকে প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মানবাধিকার কর্মী ও বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সরকার বিরোধীদের দমনে বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
২০১৯ সালে প্রথমবার কাভালার মুক্তির আহ্বান জানানোর পর, ইউরোপীয় আদালত আবারও তার মুক্তির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং তার সাজাকে ‘অকার্যকর ও বাতিল’ বলে গণ্য করার কথা বলেছে। এক বিবৃতিতে আদালত জানায়, তুরস্ক কাভালার বেশ কয়েকটি মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে। এই লঙ্ঘন দেশটির বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার কাঠামোগত দুর্বলতাকেই উন্মোচিত করে, যা সংবেদনশীল রাজনৈতিক মামলাগুলোতে বিচারিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ করে দেয়।
অবশ্য তুরস্ক সরকার বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ইউরোপীয় আদালতের আগের রায়গুলো খারিজ করে দিয়ে বলেছিলেন, যারা আমাদের দেশের আদালতকে স্বীকৃতি দেয় না, তুরস্কও তাদের স্বীকৃতি দেবে না।
২০১৩ সালের বিক্ষোভের অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৭ সালে প্রথম কাভালাকে আটক করা হয়েছিল। ২০২০ সালে তিনি খালাস পেলেও দ্রুতই তাকে ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার খালাসের রায় বাতিল করে দুটি মামলাকে একত্রিত করা হয় এবং ২০২২ সালের এপ্রিলে তাকে প্যারোলহীন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই মামলাটি ২০২১ সালে একটি বড় কূটনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছিল। সে সময় আঙ্কারায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানি সহ ১০টি দেশের রাষ্ট্রদূত কাভালার মুক্তির দাবি জানালে এরদোয়ান তাদের ‘অবাঞ্ছিত’ (পারসোনা নন গ্রাটা) ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছিলেন।

