তুরস্কসহ আটটি দেশ ইসরায়েলের প্রতি গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপের অধীনে থাকা অমিমাংসিত প্রতিশ্রুতিগুলো অবিলম্বে পূরণের দাবি জানিয়েছে। এই তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, কাতার, মিশর, পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং জর্ডান।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজায় চলমান মানবিক সংকটের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, গাজায় মানবিক সহায়তা এবং জরুরি পুনরুদ্ধার সামগ্রী নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো পুনর্নির্মাণে সহায়তা করার জন্য ইসরায়েলকে তার প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে।
বিবৃতিতে দেশগুলো গাজায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং সব ধরনের লঙ্ঘন বন্ধ করার ওপরও জোর দিয়েছে। এর আগে, 'বোর্ড অব পিস' জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের প্রাক্কালে তাদের রোডম্যাপের সমর্থনে আন্তর্জাতিক সহায়তার ডাক দিয়েছিল। বোর্ড জানায়, শান্তি পরিকল্পনাটি ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা শান্তি সম্মেলনের পথ প্রশস্ত করেছিল, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজোলিউশন ২৮০৩ এবং বোর্ডের প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে।
গাজায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনীতির ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বোর্ড অব পিস। এদিকে, ইসরায়েল গত ১০ অক্টোবর, ২০২৫ থেকে কার্যকর যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলী পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, চুক্তিকৃত ত্রাণ ও জ্বালানি গাজায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও গাজায় প্রায় প্রতিদিন প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৪,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া, গাজা উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।

