কেনিয়ার মাসাই মারা গেম রিজার্ভের বিশাল তৃণভূমিতে এখন আর পেট্রোলচালিত মোটরসাইকেলের গর্জন শোনা যায় না। সেখানকার রেঞ্জাররা বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষণ এবং চোরা শিকারিদের অনুসরণ করতে এখন ব্যবহার করছেন বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল। এই নীরব যানগুলো বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত না করেই তাদের কাছাকাছি পৌঁছাতে সাহায্য করছে, যা সংরক্ষণের কাজে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মারা-সিয়ানা রেঞ্জার জোশুয়া কিজাপে, যিনি এন্টুমোটো সাফারি ক্যাম্পের সাথে যুক্ত, জানান যে এই মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন কোনো শব্দ করে না এবং ধোঁয়াও বের হয় না। ফলে বন্যপ্রাণীরা সহজে সতর্ক হতে পারে না এবং চোরা শিকারিরাও তাদের আগমনের শব্দ শুনতে পায় না। কিজাপে বলেন, এই বাইকের মাধ্যমে তিনি বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত না করেই তাদের কাছাকাছি যেতে পারেন এবং চোরা শিকারিদের অনুসরণ করার সময় তারা শব্দ শুনে সতর্ক হতে পারে না।
এই উদ্যোগটি আফ্রিকার জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ার একটি অংশ। মাসাই মারার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সাশ্রয় করে কীভাবে বৈদ্যুতিক যান ব্যবহার করা যায়, তা পরীক্ষা করছেন সংরক্ষণ কর্মীরা। বিশেষ করে বন্যপ্রাণীর বার্ষিক মাইগ্রেশনের সময় যখন প্রচুর পর্যটক ও পর্যবেক্ষক সেখানে ভিড় করেন, তখন এই নীরব যানগুলো পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
দ্য আর্থশট প্রাইজ-এর সিইও জেসন কনাউফ এই প্রযুক্তিকে অত্যন্ত কার্যকর বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, মাসাই মারার মতো চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে বৈদ্যুতিক যান সফল হলে তা আফ্রিকার অন্যান্য দুর্গম এলাকাতেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। কনাউফের মতে, এটি প্রমাণ করে যে জ্বালানি রূপান্তর কেবল শহরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
নাইরোবি-ভিত্তিক বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রোম (ROAM) এই বাইকগুলো তৈরি করেছে। রোম-এর সিইও ফিলিপ লভস্ট্রমের মতে, পেট্রোল ব্যবহারের পরিবর্তে সৌরশক্তি ব্যবহার করে বাইক চার্জ করা পরিবেশের জন্য ইতিবাচক। রোমের এই বাইক একবার চার্জে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে, তবে দীর্ঘ টহলের জন্য পথে চার্জিং স্টেশনের প্রয়োজন হবে। লভস্ট্রম জানান, বাইকগুলো সাধারণ ১০-অ্যাম্পিয়ার সকেটে চার্জ করা যায়, তাই ছোট সোলার সিস্টেম ব্যবহার করেই চার্জিং স্টেশন তৈরি সম্ভব।
সংরক্ষণ ছাড়াও স্থানীয় জনবসতির জন্য এই বৈদ্যুতিক যানগুলো গুরুত্বপূর্ণ। এমবু রিভার ক্যাম্প ২০১৯ সাল থেকে সোলার-চার্জড বৈদ্যুতিক সাফারী যান ব্যবহার করছে। ক্যাম্পের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-পরিচালক লোয়িক আমাদো জানান, এই যানগুলো নীরব, টেকসই এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক। তার প্রতিষ্ঠান ইইআরএ ল্যাব (EERA LAB) এখন পূর্ব আফ্রিকার ২৫টি লজে সৌরশক্তি, বর্জ্য পানি শোধন এবং বৈদ্যুতিক যান রূপান্তরের কাজ করছে।
আমাদো জানান, প্রথাগত সাফারি যান রূপান্তর করতে ৩৫,০০০ থেকে ৪৫,০০০ ডলার খরচ হলেও জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ সাশ্রয়ের মাধ্যমে আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই এই বিনিয়োগ উঠে আসে। বর্তমানে কেনিয়ার অল্প কিছু সাফারি অপারেটর, যেমন আসিলিয়া, তাদের বৈদ্যুতিক বহর পরিচালনা করছে। আমাদোর লক্ষ্য হলো ২০৩৫ সালের মধ্যে মাসাই মারাকে নেট-জিরো বা শূন্য নির্গমন এলাকায় রূপান্তর করা।

