নেপালের ভয়াবহ বন্যায় ৬৬০ জনেরও বেশি পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে অন্তত ৬৫ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পর্যটন বোর্ড। এই দুর্যোগের পর মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নেপাল ও চীনের সীমান্ত অঞ্চলে প্রায় ৯০ জন আমেরিকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং তিনজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
শুধু নেপালের বন্যাই নয়, বিশ্বজুড়ে ভ্রমণকারীরা প্রায়ই বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি মেক্সিকোতে সামরিক অভিযানে এক কার্টেল নেতা নিহত হওয়ার পর সেখানে তৈরি হওয়া সহিংসতা কিংবা ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও পর্যটকেরা আটকা পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে "ইনশিওর মাই ট্রিপ" (InsureMyTrip)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুজান মরো বলেন, "ভ্রমণের আনন্দময় পরিকল্পনা করার সময় সব বিপদের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয় এবং কেউ তা করতেও চায় না। তবে বিপদে পড়লে কীভাবে সাড়া দিতে হবে, সেই প্রস্তুতিটুকু অবশ্যই রাখা যায়।"
বিদেশে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের বিনামূল্যে সেবা 'স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম' (STEP)-এ নিবন্ধন করার পরামর্শ দেয়। এর মাধ্যমে জরুরি আপডেট পাওয়া এবং মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সহজ হয়। যেকোনো সমস্যায় পর্যটকেরা সরাসরি স্থানীয় মার্কিন embassy বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করতে পারেন অথবা স্টেট ডিপার্টমেন্টের হেল্পলাইন নম্বরে (১-২০২-৫০১-৪৪৪৪) কল করতে পারেন। এ ছাড়া, ফোন কল কাজ না করলে প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া, মেসেজিং অ্যাপ বা টেক্সট মেসেজ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ অনেক সময় নেটওয়ার্ক দুর্বল থাকলেও টেক্সট বা ডাটা সার্ভিস সচল থাকে।
বিদেশে চিকিৎসার খরচ এবং জরুরি স্থানান্তর বা মেডিকেল ইভাকুয়েশন অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে পারে। সুজান মরো জানান, একটি মেডিকেল ইভাকুয়েশনের খরচ "১ লাখ ডলার বা তার বেশি" হতে পারে। এই বিপুল ব্যয় এড়াতে ভ্রমণের ঝুঁকি বুঝে দ্রুত ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স বা ভ্রমণ বীমা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, নেপালের বন্যার মতো ঘটনা ঘটার পর যদি কেউ বীমা কিনতে চান, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সাথে সাথেই বীমা করা উচিত। বীমার ক্ষেত্রে সাধারণ 'পোস্ট-ডিপার্চার প্ল্যান' থেকে শুরু করে ট্রিপ বাতিল বা যেকোনো কারণে ট্রিপ বাতিলের সুবিধা (Cancel for Any Reason – CFAR) নেওয়া যেতে পারে, যা ট্রিপ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে বাতিল করলে প্রায় ৫০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত অর্থ ফেরত পেতে সাহায্য করে।
বড় ধরনের দুর্যোগে মার্কিন সরকার নাগরিকদের সরিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে, তবে স্টেট ডিপার্টমেন্টের স্পষ্ট নির্দেশনা হলো—ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থেকে নিজের জীবন বিপন্ন করবেন না। বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু থাকতেই নিরাপদ উপায়ে নিজ উদ্যোগে এলাকা ত্যাগ করা উচিত। চীনের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা মার্কিন নাগরিকেরা দূতাবাসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জরুরি সহায়তা চাইতে পারেন। নেপালে থাকা পরিবারের সদস্যদের খোঁজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে টোল-ফ্রি নম্বর ১-৮৮৮-৪০৭-৪৭৪৭ এবং অন্য দেশ থেকে ১-২০২-৫০১-৪৪৪৪ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। অন্যদিকে, চীনে থাকা স্বজনদের তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে ০১১-৮৬-১০-৮৫৩১ ৪০০০ এবং চীন থেকে ০১০-৮৫৩১ ৪০০০ নম্বরে কল করা যাবে।
বীমা দাবি করার সুবিধার্থে সুজান মরো সমস্ত খরচের রসিদের ছবি তুলে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, বীমা কোম্পানি নিজে থেকে নথিপত্র সংগ্রহ করবে না, বরং গ্রাহককেই সব প্রমাণ সরবরাহ করতে হবে। তাই ঘটনার পরপরই দ্রুত বীমা দাবি করা উচিত, কারণ সময় পেরিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এই জটিল প্রক্রিয়া সহজ করতে 'ইনশিওর মাই ট্রিপ'-এর 'আইএমটি অ্যাসিস্ট' (IMT Assist) কর্মসূচি গ্রাহকদের সহায়তা করে থাকে।

