তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান মন্তব্য করেছেন যে, যুদ্ধাপরাধীদের স্থান জাতিসংঘের মঞ্চে নয়, বরং আদালতের কাঠগড়ায়। ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত ২১তম মুসিয়াদ এক্সপো ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ফেয়ার এবং ২৯তম ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এই কঠোর বার্তা দেন। এরদোয়ান বলেন, যারা অপরাধ করেছে এবং রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, গণহত্যায় জড়িতদের যদি ন্যায়বিচার এবং ইতিহাসের কাছে জবাবদিহি করতে না হয়, তবে একই ধরনের নৃশংসতা বারবার ফিরে আসবে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি তুরস্কের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ একা বা পরিত্যক্ত নয়। গাজায় যারা তাদের অধিকার ও ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই করছে, তুরস্ক তাদের পাশে থাকবে এবং নির্যাতিতদের কণ্ঠস্বর হয়ে কাজ চালিয়ে যাবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরুর সময় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ থেকে ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদলগুলোর প্রশংসা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে জাতিসংঘ গণহত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিয়েছে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিকে তিনি বৈধতা, প্রতিনিধিত্ব ও ন্যায়বিচারের দিক থেকে একটি বড় সংকটের সম্মুখীন বলে বর্ণনা করেন।
অর্থনৈতিক বিষয়ে এরদোয়ান জানান, তুরস্ক টানা ২৪ প্রান্তিক ধরে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে এবং বর্তমানে দেশটি বিশ্বের ১৬তম ও ইউরোপের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতি। ২০০২ সালে তুরস্কে রপ্তানিকারক কোম্পানির সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার, যা ২০২৫ সালে ১ লাখ ৬৮ হাজারে উন্নীত হয়েছে। তিনি আরও জানান, ২০ দিন আগে ঘোষিত নতুন মধ্যমেয়াদী কর্মসূচির মাধ্যমে টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে তুরস্ক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

