যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত দুই অভিবাসী দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ এসওয়াতিনিতে পৌঁছেছেন। দেশ দুটির মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি বিতর্কিত চুক্তির আওতায় তাদের সেখানে পাঠানো হয়েছে বলে এসওয়াতিনি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ল্যাটিন আমেরিকা থেকে আসা এই দুই ব্যক্তি ‘তৃতীয় পক্ষের নাগরিক’। যুক্তরাষ্ট্র ও এসওয়াতিনির মধ্যে পূর্বের আলোচনা ও চুক্তির ধারাবাহিকতায় তাদের সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাই মাসে প্রথম দল আসার পর এটি পঞ্চম দফায় এসওয়াতিনিতে পৌঁছানো অভিবাসীদের দল। তবে এসওয়াতিনি সরকার এই দুই ব্যক্তির পরিচয় বা তারা কতদিন সেখানে অবস্থান করবেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
এর আগের কয়েক দফায় পাঠানো অভিবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে নিজ দেশে ফিরে গেছেন। সেপ্টেম্বরে এক জ্যামাইকান নাগরিককে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এছাড়া এক কম্বোডিয়ান নাগরিককে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারের পাঁচ মাস বন্দি থাকার পর মার্চ মাসে মুক্তির পাশাপাশি প্রত্যাবাসনের জন্য পাঠানো হয়েছিল।
মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করেছে। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এই পদ্ধতিটি মূলত একটি আইনি ফাঁকফোকর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মাধ্যমে আশ্রয়প্রার্থীদের পরোক্ষভাবে সেই দেশগুলোতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে যেখান থেকে তারা পালিয়ে এসেছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে এ ধরনের অনেকগুলো গোপন চুক্তির মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষকে তাদের নিজ দেশ নয় এমন দুই ডজন দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের ১১টি চুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে রুয়ান্ডা, ঘানা, ক্যামেরুন, কঙ্গো, উগান্ডা, সিয়েরা লিওন এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এসওয়াতিনির রাজা তৃতীয় এমসওয়াতি দীর্ঘকাল ধরে তার দেশে গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনের ওপর কঠোর দমন-পীড়নের জন্য সমালোচিত হয়ে আসছেন। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের এই তৃতীয়-দেশীয় নির্বাসন পরিকল্পনা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে লাইবেরিয়া একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যারা ১,২০০ পর্যন্ত অভিবাসীকে গ্রহণ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং এই মাসে তাদের প্রথম দলটিকে স্বাগত জানিয়েছে।

