ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে ক্যান্সারের প্রকোপে ব্যাপক বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়েছে। এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে যেসব দেশে গড় আক্রান্তের হার ইইউ গড়ের চেয়ে বেশি, সেখানে প্রায় ৩০ হাজার অতিরিক্ত ফুসফুস ও জরায়ু ক্যান্সারের ঘটনা ঘটেছে। মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত ইউরোপীয় সোসাইটি ফর মেডিকেল অনকোলজি কংগ্রেসে ইতালীয় মহামারী বিশেষজ্ঞ দিয়েগো সেরাইনো এই তথ্য তুলে ধরেন, যা এএনএসএ বার্তা সংস্থা প্রকাশ করেছে।
ইউরোপিয়ান ক্যান্সার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকরা শনাক্ত করেছেন যে, ইইউ গড়ের চেয়ে বেশি আক্রান্তের হার থাকা দেশগুলোতে মোট ২৯,৪১২টি অতিরিক্ত ক্যান্সার রোগী রয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে হাঙ্গেরিতে প্রতি ১ লাখে ১৩০ জন আক্রান্তের বিপরীতে সুইডেনে এই হার ছিল মাত্র ৩৮ জন। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, ১২টি দেশে ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণে ১১,১০৫টি অতিরিক্ত কেস রেকর্ড করা হয়েছে।
নারীদের ক্ষেত্রে ফুসফুসের ক্যান্সারের চিত্র আরও বৈচিত্র্যময়। ডেনমার্কে প্রতি ১ লাখে ৮৩ জন আক্রান্তের বিপরীতে লিথুয়ানিয়ায় এই সংখ্যা মাত্র ২০ জন। ১১টি দেশে নারীদের ফুসফুসের ক্যান্সারের অতিরিক্ত সংখ্যা ১৩,৪৪১টি।
জরায়ু ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বৈষম্য আরও প্রকট। মাল্টায় প্রতি ১ লাখে ৫ জন নারী আক্রান্ত হলেও রোমানিয়ায় এই হার সাত গুণেরও বেশি, অর্থাৎ ৩৬ জন। ১০টি দেশে জরায়ু ক্যান্সারের মোট ৪,৮৬৬টি অতিরিক্ত ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার অর্ধেকেরও বেশি বা ২,৪৭৫টি কেবল রোমানিয়ার।
গবেষকরা ফুসফুসের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কঠোর তামাকবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) টিকাদান এবং নিয়মিত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে প্রাক-ক্যান্সারজনিত ক্ষত দ্রুত শনাক্ত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।

