ইউরোপীয় কমিশন তাদের বার্ষিক সম্প্রসারণ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ অর্জনের দৌড়ে বিভিন্ন দেশের সম্ভাব্য সময়সূচি তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৮ সালে ২৮তম সদস্য হিসেবে ইইউতে যোগদানের সঠিক পথে রয়েছে মন্টিনিগ্রো। এছাড়া এর পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৯ সালে আলবেনিয়া ও মলদোভা জোটে যোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, চলতি দশকের শেষের আগে ইউক্রেনের জন্য ইইউ সদস্যপদের শর্ত পূরণ করা কঠিন হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিশনের এই নতুন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, মলদোভা ২০২৮ সালের শুরুর দিকেই সদস্যপদ সংক্রান্ত আলোচনা সমাপ্ত করতে পারে। ইইউর নিয়ম অনুসারে, আলোচনা শেষ হওয়ার পর সদস্য দেশগুলোর সর্বসম্মত সমর্থন প্রয়োজন হয়, যা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় নিতে পারে। অন্যদিকে ইউক্রেনকে ২০২৮ সালের মধ্যে আলোচনা শেষ করার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে সংস্কারের গতি বাড়াতে বলা হয়েছে। ফলে ২০৩০ সালের আগে ইউক্রেন ইইউতে যোগ দিতে পারবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। বর্তমান মূল্যায়নে সদস্যপদের দৌড়ে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকা চার দেশ হলো যথাক্রমে মন্টিনিগ্রো, আলবেনিয়া, মলদোভা এবং ইউক্রেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পশ্চিম বলকানের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ সার্বিয়ার সামনে জোটে যোগদানের নতুন আশা তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন বলেন, গত এক বছরে কিছু প্রার্থী দেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আমাদের সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ধাপে ধাপে আমরা একটি আরও পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী ইউনিয়ন গড়ে তুলছি।
বিগত দিনে পপুলিস্ট প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের অধীনে সার্বিয়া বেশ কিছু নতুন নীতিগত অধ্যায় চালু করলেও দেশটিতে গণতান্ত্রিক সূচকের অবনতি ঘটেছিল। গত এপ্রিলে কমিশন সতর্ক করেছিল যে, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারলে সার্বিয়া প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ইউরো (১.৭ বিলিয়ন ডলার) সহায়তা তহবিল হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে। এছাড়া যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করার সময় মারা যাওয়া বসনীয় সার্ব কমান্ডার রাতকো ম্লাদিচের স্মরণে গত সেপ্টেম্বরে বেলগ্রেডে জনসমক্ষে আয়োজিত শেষকৃত্য ইউরোপীয় নেতাদের ক্ষুব্ধ করেছিল।
তবে গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভুচিচ পরাজিত হন। দুই বছর ধরে ভুচিচ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো একটি ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট নির্বাচিত হওয়ায় দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্প্রসারণ বিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস ইইউ আইনপ্রণেতাদের প্রতিবেদন সম্পর্কে অবহিত করার সময় বলেন, সার্বিয়ার সামনে এখন একটি নতুন শুরুর সুযোগ এসেছে। তিনি আরও বলেন, সার্বিয়ার নতুন সরকারের সামনে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মৌলিক অধিকার শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশটির ইইউতে যোগদানের পথকে ত্বরান্বিত করবে।
প্রতিবেদনে অন্যান্য প্রার্থী দেশগুলোর অবস্থানও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পশ্চিম বলকানের অন্য দুই দেশ বসনিয়া-হার্জেগোভিনা এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার নিকট ভবিষ্যতে ইইউতে যোগদানের কোনো সম্ভাবনা নেই। বসনিয়ার অকার্যকর জোট সরকার এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার সাংবিধানিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কারণে প্রক্রিয়াটি থমকে আছে। কসোভো ইইউতে যোগ দিতে আগ্রহী হলেও এখনো প্রার্থী দেশের মর্যাদা পায়নি। এছাড়া গণতান্ত্রিক নীতি লঙ্ঘনের কারণে জর্জিয়া ও তুরস্কের সঙ্গে ইইউর সদস্যপদ সংক্রান্ত আলোচনা আপাতত স্থগিত রয়েছে।

