মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, কার্যকরভাবে শেষ ট্রাম্প যুগ

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা এক সুনির্দিষ্ট বার্তা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সংকুচিত করার পক্ষে রায় দিয়েছেন। ঠিক ১০ বছর আগে ২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে তিনি যেভাবে হোয়াইট হাউসে এসেছিলেন, তার এক দশক পর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কার্যত ‘ট্রাম্প যুগ’-এর অবসান ঘটল। নির্বাচনের আগে প্রকাশিত পূর্বাভাসগুলো রিপাবলিকানদের জন্য এতটাই হতাশাজনক ছিল যে, ভোট বিশ্লেষকদের মধ্যে রসিকতা ছড়িয়ে পড়েছিল—এই ফল হয় ট্রাম্প যুগের সমাপ্তি ঘটাবে, না হয় জরিপকারী পেশারই বিলুপ্তি ঘটাবে।

নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয়ের পূর্বাভাস থাকলেও রিপাবলিকানরা আশা করেছিলেন ফলাফল কিছুটা মিশ্র হবে, যাতে তারা নিজেদের প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করার দাবি তুলতে পারেন। তবে ভোটের ফলাফলের পর সেই সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা এখন প্রেসিডেন্ট ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাতে পারবেন, নিজস্ব নীতিগত এজেন্ডা সামনে আনতে পারবেন, কংগ্রেসে সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেন এবং ট্রাম্পের বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারবেন।

পরাজয়ের পর ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে, তা নিয়ে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি হয়তো এই হারকে জালিয়াতি বলে অভিহিত করবেন এবং ডেমোক্র্যাট ও অবৈধ অভিবাসীদের এক তথাকথিত চক্রান্তকে দায়ী করবেন, অথবা অন্য কারও ওপর দায় চাপাবেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তার প্রশাসন আলাস্কার মতো হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়া সিনেট আসনগুলোর ফলাফল প্রত্যয়ন না করার ইঙ্গিত দিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার রাতে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বড় অক্ষরে অসন্তোষ প্রকাশ কিংবা মাইক্রোফোনের সামনে গর্জে উঠলেও তার এই অবস্থান বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

২০২৪ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর প্রথম কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে একচ্ছত্র রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল, আগামী দুই বছরের পরিস্থিতি তার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। সে সময় আমলাতন্ত্রে ছাঁটাই চালিয়ে শত শত পদ বিলুপ্ত করা হয় এবং হাজার হাজার পদে অনুগত ও অদক্ষ ব্যক্তিদের বসানো হয়েছিল। প্রতিশোধের ভয়ে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তার সামাজিক এজেন্ডা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল। এমনকি ট্রাম্প কংগ্রেসের বাজেট সংক্রান্ত সাংবিধানিক ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে জনগণের প্রতিনিধির ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে করদাতাদের অর্থ নিজের ইচ্ছামতো পুনর্নির্ধারণ করেছিলেন। বিরোধী দল দুর্বল মনে হওয়ায় তিনি এসব করতে সক্ষম হয়েছিল।

তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয় কোনো গভীর সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ফল ছিল না, বরং তা ছিল মূল্যস্ফীতিসহ অর্থনৈতিক বাস্তবতার ফল। এখন সেই একই অর্থনৈতিক সংকট রিপাবলিকানদের ওপর উল্টো আঘাত এনেছে। রেকর্ড জ্বালানি তেলের দাম, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন যুদ্ধ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা নিয়ে তিনি উদাসীন থেকেছেন।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সময়েও ট্রাম্প নিজেকে জনবিচ্ছিন্ন হিসেবে প্রকাশ করেছেন। সরকারি ভবনে নিজের ছবি সংবলিত বিশাল ব্যানার ঝুলানো, হোয়াইট হাউস সোনালি রঙে সজ্জিত করা এবং রাজনৈতিক জনসভায় অন্যান্য পুরুষ রাজনীতিবিদদের নিয়ে বিচিত্র মন্তব্য করা তাকে এক মেকি চুলে সজ্জিত মেরি অ্যান্টোনেটের মতো বাস্তবতাবিচ্ছিন্ন হিসেবে তুলে ধরেছে। ২০২৭ সালে প্রবেশের মুখে ট্রাম্পের সামনে এখন এক বিরোধী নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস, নিম্নমুখী জনপ্রিয়তা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং মেয়াদের শেষ সীমানা অপেক্ষা করছে।

ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের নিজস্ব বলয়ে বিভাজন তৈরি করেছে এবং ২০১৬ সালের ‘নতুন কোনো যুদ্ধ নয়’ সংক্রান্ত তার মূল অঙ্গীকার ভেঙে দিয়েছে, যা রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করেছে। সামনের দিনে তরুণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী রিপাবলিকানরা নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ট্রাম্পের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করতে পারেন। ট্রাম্প হয়তো কিং লিয়ারের মতো ক্ষোভ প্রকাশ করবেন বা প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করবেন, কিন্তু তার সেই প্রভাব এখন বহুলাংশে নিষ্প্রভ হয়ে গেছে। রিপাবলিকান সমর্থকদের ওপর এতদিন ধরে ট্রাম্পের যে একচ্ছত্র প্রভাব ছিল, নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে ভোটাররা আর তার পেছনে হাঁটছেন না।

শিরোনাম :
কাইম কার্দাশিয়ান ও গ্লেন ক্লোজের ‘অল’স ফেয়ার’: দ্বিতীয় সিজনে কি কিছুটা উন্নতি হলো? বিজয়ী হয়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে কড়া জবাব দিলেন আবদুল আল-সাইয়েদ ইইউর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রকাশ: ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন সদস্য পাচ্ছে জোটটি মিসিসিপিতে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা: সিনেট নির্বাচনে ঝুলে রয়েছে ফল অভিষেকের ব্যর্থতা ভুলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচসেরা অংশুল কম্বোজ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, কার্যকরভাবে শেষ ট্রাম্প যুগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিয়ে ট্রাম্পকে বিদ্রূপ জিমি কিমেলের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ে ‘ট্রাম্পবাদের সমাপ্তি’ দেখছে ইরান সাউথ ক্যারোলিনায় ২৮ বছর পর ডেমোক্র্যাটিক সিনেটরের জয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিক কাইম কার্দাশিয়ান ও গ্লেন ক্লোজের ‘অল’স ফেয়ার’: দ্বিতীয় সিজনে কি কিছুটা উন্নতি হলো? বিজয়ী হয়ে ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে কড়া জবাব দিলেন আবদুল আল-সাইয়েদ ইইউর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা প্রকাশ: ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন সদস্য পাচ্ছে জোটটি মিসিসিপিতে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা: সিনেট নির্বাচনে ঝুলে রয়েছে ফল অভিষেকের ব্যর্থতা ভুলে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচসেরা অংশুল কম্বোজ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কা, কার্যকরভাবে শেষ ট্রাম্প যুগ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় নিয়ে ট্রাম্পকে বিদ্রূপ জিমি কিমেলের মার্কিন নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ে ‘ট্রাম্পবাদের সমাপ্তি’ দেখছে ইরান সাউথ ক্যারোলিনায় ২৮ বছর পর ডেমোক্র্যাটিক সিনেটরের জয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে জয়ী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তিন রাজনীতিক