জার্মানির লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যর্থ হামলার ঘটনায় রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) গভীর সংকটে পড়েছে। গত ৪ আগস্টের এই ঘটনার পর ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলো সামরিক সংঘাত এড়িয়ে কীভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
জার্মান সরকার মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, এই হামলার পেছনে রাশিয়ার হাত রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় বার্লিন একটি রুশ কনস্যুলেট বন্ধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। লিপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের কেন্দ্র, যা ইউক্রেনকে সহায়তা প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হয়। ঘটনার দিন একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছে বিস্ফোরকবাহী ড্রোনটি পাওয়া গিয়েছিল, যা পরে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো জানান, ফ্রান্স রাশিয়ার দূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। তিনি রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহরের আরও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এমন গুরুতর ঘটনার কোনো পরিণতি ছাড়া পার পাওয়া উচিত নয়। ইইউ ইতিমধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে রাশিয়ার ৩,০০০-এর বেশি কর্মকর্তা, অলিগার্ক এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রায় দুই ডজন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কায়া কালাস জানিয়েছেন, ইইউ ইতিমধ্যে আরও ১,৬০০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তবে ইইউ সদস্য দেশগুলো, যাদের অনেকেই ন্যাটোর সদস্য, রাশিয়ার মতো পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সাথে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল দাবি করেছেন, বার্লিন তাদের প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রস্তুত করেছে এবং এখন রাশিয়াকে এর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। একই সাথে তিনি ইউক্রেন পরিস্থিতির বিষয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়াকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, বার্লিন নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে এবং এসব প্রমাণ ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাখা হয়েছে’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইউরোপজুড়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদী প্রচারণার অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে পোল্যান্ডের একটি ড্রোন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড এবং এস্তোনিয়া ও লাটভিয়ায় ড্রোনের অনুপ্রবেশের মতো ঘটনাগুলো উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস জানিয়েছেন, স্পেন ও মরক্কোর সীমান্তে অভিবাসীদের প্ররোচিত করতে রাশিয়া ও ইসরায়েল ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু ইইউ অংশীদারও এই ভুয়া তথ্য প্রচার করছে। তিনি বলেন, ইউরোপের দক্ষিণের স্থল সীমান্তগুলো পূর্ব সীমান্তের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড ইইউর এই বৈঠকে যোগ দিয়ে রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তার সাথে সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে, কানাডা, আইসল্যান্ড এবং ইউক্রেনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। মিলিব্যান্ড বলেন, ইউরোপকে বিভক্ত করার এবং ইউক্রেনকে সহায়তা থেকে বিরত রাখার রাশিয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন এই সংঘাত থেকে জয়ী না হওয়া পর্যন্ত ইউরোপ তাদের পাশে থাকবে।

