ফিফা তাদের সংস্থার সংখ্যালঘু অংশ বা শেয়ার বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনাটি বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে। ৩১ জুলাই, শুক্রবার এক বিবৃতিতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানায়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সব পক্ষের মতামত গুরুত্বের সাথে শোনার পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, এই প্রকল্পটি এমন এক বিভাজনের সৃষ্টি করেছে যা ফুটবলের মূল উদ্দেশ্যের সাথে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য সবসময়ই ছিল এবং থাকবে ঐক্যবদ্ধ হওয়া এবং ফুটবলের উন্নতি সাধন করা। এই প্রেক্ষাপটেই প্রস্তাবিত প্রকল্পটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
এর আগে ২৮ জুলাই, মঙ্গলবার ফিফা তাদের 'ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' (FFE) নামক একটি ছোট অংশের মালিকানার সংখ্যালঘু শেয়ার ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা জনসমক্ষে আনে। সংস্থাটি এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের ভিত্তিতে ৪.২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের আশা করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এফএফই-এর মাধ্যমে ফিফার সবচেয়ে লাভজনক উদ্যোগগুলো, বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফুটবল পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।
বিশ্বকাপ আয়োজনে প্রতিটি আসরে বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়। এই গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত পুরুষদের বিশ্বকাপটি ছিল এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট, যেখানে তিনটি দেশের ১৬টি শহরে ৪৮টি দল ১০৪টি ম্যাচে অংশ নিয়েছে। আগামী বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা নারী বিশ্বকাপ।
ফিফার শুক্রবারের বিবৃতিতে জানানো হয়, এফএফই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল ফিফার সদস্য দেশগুলোর অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশ্বব্যাপী ফুটবলের মানোন্নয়ন করা, বিশেষ করে যেসব দেশে সহায়তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই ধরনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সবসময়ই ফিফা সদস্য দেশগুলোর সমর্থন এবং ফিফা কাউন্সিল, কনফেডারেশন ও অন্যান্য অংশীজনদের সাথে পরামর্শের প্রক্রিয়া বজায় রাখা হয়।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, আগামী দিনগুলোতে তিনি সব আগ্রহী পক্ষকে পুনরায় একত্রিত করার চেষ্টা করবেন। ফুটবলের বিকাশে এবং বিশেষ করে যে দেশগুলোতে সহায়তার প্রয়োজন, সেখানে ফুটবলের প্রসারে তিনি কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
