রাশিয়ার সুদূর পূর্বে অবস্থিত আমুর গ্যাস ও রাসায়নিক কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৫ জন কর্মী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, আগুনের সূত্রপাতের সময় কারখানার কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছোটাছুটি করছেন।
কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বিবৃতি অনুযায়ী, নিহতদের সবাই ওই কমপ্লেক্সের কর্মী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে একজন রুশ নাগরিক এবং ১৪ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এর আগে বুধবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তারা একজন রুশ ও ছয়জন চীনা নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো দেওয়া হয়নি।
মস্কো থেকে প্রায় ৫,৫০০ কিলোমিটার পূর্বে চীন সীমান্তের কাছে অবস্থিত আমুর গ্যাস ও রাসায়নিক কমপ্লেক্সটি চীনের রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি সিনোপেক এবং রাশিয়ার পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানি সিবুর-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। বর্তমানে নির্মাণাধীন এই কমপ্লেক্সটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিল। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পলিইথিলিন ও পলিপ্রোপিলিন উৎপাদনকারী স্থাপনা হিসেবে পরিকল্পিত, যার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ২.৭ মিলিয়ন টন।
রাশিয়ার ইনভেস্টিগেটিভ কমিটি অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত নাশকতা বা অন্য কোনো অশুভ কর্মকাণ্ডের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। সিবুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এমন স্থাপনাগুলোতে নির্মাণ ও ইনস্টলেশনের কাজ স্বাভাবিকভাবে চলছে। এছাড়া বাতাসের গুণমান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ক্ষতিকারক কোনো পদার্থের নিঃসরণ অনুমোদিত মাত্রার বেশি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় চীনা কনস্যুলেটও ঘটনাস্থলে একটি প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, অগ্নিকাণ্ডটি কারখানার একটি সহায়ক প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় শুরু হয়েছিল এবং মূল যন্ত্রপাতির কোনো ক্ষতি হয়নি।

