নেপাল ও চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ শত শত মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। তবে শনিবার প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আকাশপথে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে প্রায় ৬০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং প্রায় ২,৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও কিছু জীবিত ব্যক্তিকে কাদা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে এখনো জোর তৎপরতা চলছে।
নেপালি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নত না হওয়া পর্যন্ত হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে। নেপালের রাসুয়া জেলায় অবস্থিত আপার ত্রিশূলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং চীনের অংশে ক্ষতিগ্রস্ত জিরং সীমান্ত ক্রসিংয়ের মতো জায়গাগুলোতে উদ্ধারকাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ মনে করছে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে প্রায় ১০০ জনের বেশি মানুষ কাদার নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বাসনেত আরও জানান, উদ্ধারকারীরা ঝুড়ি ও দড়ির সাহায্যে দুর্গম কিছু স্থানে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তবে ৪ থেকে ৫ ফুট (১.২ থেকে ১.৫ মিটার) গভীর কাদা এবং হেলিকপ্টার নামানোর মতো সীমিত জায়গার কারণে কাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় সতর্কবার্তা পাওয়ার পর উদ্ধারকারী দলগুলোকে বেশ কয়েকবার জায়গা পরিবর্তন করতে হয়েছে।
বুধবার হিমালয় পর্বতমালায় হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট নতুন একটি হ্রদ থেকে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এই হ্রদটি উপচে পড়ার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকারীরা উচ্চ সতর্কতায় রয়েছেন। চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবারের শেষের দিকে হ্রদটির পানি ১০ মিটার (৩২ ফুট) কমেছে। এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জিরং বন্দরে উদ্ধারকারীদের পৌঁছানোর ছবি প্রচার করেছে, যেখানে অনেকে পায়ে হেঁটে বা ভেলায় করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। উদ্ধারকারীরা সেখানে কাউকে জীবিত পাওয়ার আশায় চিৎকার করে ডাকছিলেন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, দেশটিতে বন্যায় ৫৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যদিও পুলিশ নিহতের সংখ্যা ৫৫৩ জন বলে জানিয়েছে। চীনের অংশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালে এ পর্যন্ত ৩,৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১,৯২৪ জনে পৌঁছেছে। নিখোঁজদের মধ্যে অনেক বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন যারা সেখানে কাজ, ট্রেকিং বা তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।

