যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় লিয়ারজেট ৬০ মডেলের একটি ব্যবসায়িক বিমানের নয় আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। গত ১ নভেম্বর পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকরস এলাকার কাছে বিমানটি খাড়া নিচে নেমে এসে মাটিতে আছড়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে। এ দুর্ঘটনায় মাটিতে থাকা কোনো ব্যক্তি আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হননি। দুর্ঘটনাস্থলে একটি জ্বলন্ত গর্ত তৈরি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল বিমান চলাচল কর্মকর্তারা এ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালাচ্ছেন।
ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিমালিকানাধীন ওই বিমানটি মার্কিন পূর্ব সময় সকাল ১০:৩৭ মিনিটের দিকে টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে বাহামার নর্থ এলিউথেরা এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। ইউএসএ টুডে নেটওয়ার্কের প্রতিবেদনে বলা হয়, উড্ডয়নকালে বিমানটি একটি প্রচণ্ড বিধ্বংসী বজ্রঝড়ের মুখোমুখি হয়েছিল। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে এই ঝড়ের কারণে মেঘ প্রায় ১৫,০০০ ফুট ওপরে উঠে যায়। প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও ঝোড়ো পরিস্থিতির কারণে বাতাসে থাকা পানির কণা দ্রুত জমে বরফে পরিণত হয়ে বিমানের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে থাকতে পারে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরানার২৪’ এবং ‘লাইভএটিসি.নেট’-এ সংরক্ষিত মায়ামি সেন্টারের রেডিও অডিও ডেটা পর্যালোচনা করে জানা যায়, ফ্লোরিডার আকাশসীমায় থাকা অবস্থায় ক্রুরা বিমানে হালকা বরফ জমা ও মাঝারি টার্বুলেন্সের (বাতাসের ঝাঁকুনি) কথা জানান। তবে এই বার্তার দুই মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে বিমান থেকে জরুরি ‘মেডে’ (mayday) বার্তা পাঠানো হয় এবং বিমানটি প্রতি মিনিটে ১০,০০০ ফুট গতিতে নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে বলে জানানো হয়।
গত ২ নভেম্বর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) সদস্য টম চ্যাপম্যান জানান, মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই বিমানটি মাঝআকাশে খণ্ড-বিখণ্ড হতে শুরু করেছিল বলে বেশ কিছু আলামত ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঠিক কী কারণে এই বিপর্যয় ঘটল, তা নিশ্চিত করতে তদন্তকারী দল দুর্ঘটনাস্থলের প্রমাণ ও তথ্য বিশ্লেষণ অব্যাহত রেখেছে।

