আর্মেনিয়ার দুর্নীতি দমন কমিটি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট রবার্ট কোচ্যারিয়ান এবং তাঁর বড় ছেলেকে আটক করেছে। পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের অভিযানের পর গত মঙ্গলবার তাঁদের আটক করা হয়।
দেশটির প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, ৭১ বছর বয়সী কোচ্যারিয়ানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং বড় অঙ্কের অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিরোধী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তাঁর বড় ছেলে সেদারেক ছাড়াও আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে প্রসিকিউটরের কার্যালয় নিশ্চিত করেছে।
এই নাটকীয় আটকের ঘটনাটি ঘটেছে পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গে কোচ্যারিয়ানের ছোট ছেলে লেভনের এক উত্তপ্ত বাদানুবাদের ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে। আর্মেনিয়ার দুর্নীতি দমন কমিটি জানিয়েছে, ১৯৯৮ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কোচ্যারিয়ান ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় সম্পদ বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে অবৈধভাবে বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করার অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। এদিকে আর্মেনিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কোচ্যারিয়ানের উত্তরসূরি এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট সের্ঝ সার্গসিয়ানকেও দুর্নীতি দমন কমিটির সদর দফতরে তলব করা হয়েছে।
কোচ্যারিয়ানের কার্যালয়ের প্রধান বাগ্রাত মিকোয়ান এই আটককে তাঁর পরিবার ও সাবেক প্রেসিডেন্টের ওপর সরকারের "আরেকটি হামলা" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, আটকের পর কোচ্যারিয়ান অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এর আগে পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর পর্বে লেভন কোচ্যারিয়ান অভিযোগ করেছিলেন যে, পাশিনিয়ান ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে আদালত ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। জবাবে পাশিনিয়ান লেভনের কাছে তাঁদের পারিবারিক সম্পদের উৎস জানতে চান এবং বলেন, জনগণের টাকায় অর্জিত যেকোনো সম্পদ রাষ্ট্রীয় তহবিলে ফেরত দেওয়া উচিত।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রবার্ট কোচ্যারিয়ানের রাজনৈতিক দল 'আর্মেনিয়া অ্যালায়েন্স' এই ঘটনাকে ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা এবং "বৈধতাহীন এক সরকারের নিষ্ঠুর বহিঃপ্রকাশ" বলে বর্ণনা করেছে। দলটির দাবি, এটি কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রকাশ্য অপব্যবহার। এর আগে ২০১৯ সালেও কোচ্যারিয়ানের বিচার শুরু হয়েছিল। ২০০৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীকে বলপ্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে, যেখানে অন্তত ১০ জন নিহত হন। তবে ২০২১ সালে সেই আইনি প্রক্রিয়া শেষ হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
ইয়েরেভানের ককেশাস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলেকজান্ডার ইস্কান্দারিয়ান জানান, কোচ্যারিয়ানের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় থাকাকালীন দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁর মতে, এই ঘটনা প্রো-রাশিয়ান বিরোধী দল এবং পাশিনিয়ানের প্রো-ওয়েস্টার্ন সরকারের মধ্যকার দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করবে, যা বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর জোর দিচ্ছে। ইস্কান্দারিয়ান বলেন, "এটি নিশ্চিতভাবেই ক্রেমলিনের জন্য একটি বার্তা। কোচ্যারিয়ান নিজেকে রাশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং আমরা দেখতে পাচ্ছি যে সরকার রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াই শুরু করেছে।"

