গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া এলাকায় যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি ছয়তলা ভবন ধসে আট শিশুসহ অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় উদ্ধারকারী ও চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় আরও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। স্যাটেলাইট ইমেজে দেখা গেছে, ভবনটির আশেপাশের এলাকা যুদ্ধের শুরুর দিকেই লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল, তবে ভবনটিতে ক্ষয়ক্ষতি প্রথম স্পষ্ট হয় ২০২৪ সালে। আবাসন সংকটের কারণে বাস্তুচ্যুত প্রায় ১০টি পরিবার সেখানে বসবাস করছিল।
বুধবার ভোরের দিকে হঠাৎ করেই ভবনটি ধসে পড়ে। ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার মাধ্যমে গাজা যুদ্ধের সূত্রপাত হয়, যেখানে প্রায় ১২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এরপর থেকে গাজায় ৭৩,৭৯০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। চলতি বছর যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় ১.৯ মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত এবং ১.২ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছেন। উদ্ধারকাজ ধীরগতিতে চলায় স্থানীয়রা খালি হাতেই ধ্বংসস্তূপ সরাতে বাধ্য হচ্ছেন। গাজা সিটির সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক রায়েদ আল-দাহশান জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো মানুষের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে।
জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) গাজা অফিসের প্রধান আলেসান্দ্রো ম্রাকিক জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে ৭০ থেকে ১০০ জন আটকা পড়ে থাকতে পারেন। ম্রাকিকের মতে, গাজা জুড়ে আরও প্রায় ৪০০টি যুদ্ধবিধ্বস্ত ভবন যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ সমন্বয়কারী রামিজ আলাকবারভ এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

