জার্মানির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে টানা ব্যর্থতার পর চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ তার দলের নেতৃত্ব এবং চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৬ মাস পরেই এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে তার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। রবিবার মেকলেনবার্গ-ওয়েস্টার্ন পোমেরানিয়া ও বার্লিনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পরপরই ৭০ বছর বয়সী এই চ্যান্সেলর তার সেন্টার-রাইট ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলে নিজের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা করেন।
নির্বাচনের রাতে এক বিরল উপস্থিতিতে মার্জ জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি দেশের স্থবির অর্থনীতিকে গতিশীল করার জন্য সংস্কার কাজ চালিয়ে যাবেন। তিনি বলেন, “এখন যা করা প্রয়োজন তার জন্য মেরুদণ্ড, অবিচলতা এবং ধৈর্যের প্রয়োজন। আমি সিডিইউ দলের নেতা এবং সর্বোপরি আমাদের দেশের চ্যান্সেলর হিসেবে তা প্রমাণ করব।” তবে বড় প্রশ্ন হলো, সিডিইউ তাকে কতদিন এই সংস্কার যাত্রায় সমর্থন দেবে। যদিও নির্বাচনের আগে দলের আটজন রাজ্য গভর্নর তাকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন, কিন্তু রবিবার তার এই বক্তব্য দলের ভেতর তার কর্তৃত্বের ক্ষয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্জের জন্য একটি বড় সুবিধা হলো, তার দলের ভেতর বর্তমানে কোনো স্পষ্ট উত্তরাধিকারী নেই। নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার গভর্নর হেন্ড্রিক উস্ট, বাভারিয়ার মার্কাস সোডার এবং হেসে-এর বরিস রাইন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হলেও কেউই এখন পর্যন্ত দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ দেখাননি। বিশেষ করে উস্টের নিজের রাজ্যে আগামী বসন্তেই নির্বাচন রয়েছে।
নির্বাচনী পরাজয় মার্জের শাসনকার্যকে আরও কঠিন করে তুলেছে। যদিও তিনি তার জোটসঙ্গী সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের সাথে সংস্কারের একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করেছিলেন, কিন্তু নির্বাচনের প্রচারণার সময় উভয় পক্ষ থেকেই পেনশন ব্যবস্থার মতো বিভিন্ন সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ৬৩০ আসনের বুন্দেসটাগে ক্ষমতাসীন জোটের মাত্র ১২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই পরিকল্পনা পাশ করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে এই সংকীর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা মার্জকে অপসারণের পরিকল্পনাকেও জটিল করে তুলেছে, কারণ নতুন কাউকে নির্বাচিত করতে হলেও পার্লামেন্টের সমর্থন প্রয়োজন।
অতীতের চ্যান্সেলরদের মতো মার্জ দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দিয়ে শুধু সরকার পরিচালনায় মনোযোগ দিতে পারেন কি না, তা নিয়েও জল্পনা আছে। অ্যাঞ্জেলা মের্কেল ২০১৮ সালে এবং গেরহার্ড শ্রোডার ২০০৪ সালে এমন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তবে মার্জ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি দলের নেতৃত্ব ছাড়তে চান না। বর্তমানে ‘প্রবেশনারি’ বা পরীক্ষাধীন অবস্থায় থাকা চ্যান্সেলরকে একদিকে সংস্কার বাস্তবায়ন, অন্যদিকে জোট ও দলের ঐক্য বজায় রাখার কঠিন ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। এছাড়া ডানপন্থী ‘অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি’ দলের ক্রমবর্ধমান হুমকিও তাকে সামলাতে হচ্ছে। আগামী সাত মাস পর পরবর্তী দফার রাজ্য নির্বাচন শুরু হবে, যেখানে আরেকটি ব্যর্থতা তার নেতৃত্বের সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে।

