প্রাক্তন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন বর্তমানে নর্থ কুইন্সফেরিতে তার বাড়িতে বসে বিশ্ব রাজনীতির জটিল সমীকরণ নিয়ে কাজ করছেন। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি একটি বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার অনুপস্থিতি স্পষ্ট। তার নতুন বই 'দ্য ফিউচার স্টার্টস উইথ আস'-এ তিনি এই সংকট উত্তরণের উপায় এবং ব্রিটেনের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
লেবার পার্টির বর্তমান নেতা অ্যান্ডি বার্নামের সাথে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্রাউন নিজেকে 'ব্যাকসিট ড্রাইভার' হিসেবে দেখতে চান না। তবে তিনি বার্নামকে পরামর্শ দিয়েছেন যে, ব্রিটেনের অর্থনীতিকে উদ্ভাবনমুখী করা এবং হাউজ অফ লর্ডস সংস্কার করে একে নির্বাচিত কক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, বর্তমানের ৮০০ সদস্যের লর্ডস সভা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আইনসভা, যা লবিস্টদের প্রভাবে জর্জরিত।
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্রাউন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান বিশ্ব নেতারা নৈতিকতার চেয়ে ক্ষমতার ব্যবহারকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইউক্রেন, গাজা এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের পেছনে এই ধরনের জাতীয়তাবাদী মানসিকতা দায়ী বলে তিনি মনে করেন। ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের সময় গোয়েন্দা তথ্যের বিভ্রান্তিকে তিনি একটি বড় ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তখন সত্য জানলে তিনি সরকারে থাকতেন না।
ব্যক্তিগত জীবনে ব্রাউন এখন স্থানীয় কমিউনিটি ও দাতব্য কাজের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি বিশেষ করে কার্ককাল্ডিতে দারিদ্র্য বিমোচন এবং শিশুদের কল্যাণে কাজ করছেন। অ্যামাজনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় তিনি দরিদ্রদের মাঝে পণ্য বিতরণের একটি উদ্যোগও পরিচালনা করছেন।
নিজেকে ফিট রাখতে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়ামের ওপর জোর দেওয়া ব্রাউন জানান, ৭৫ বছর বয়সেও তিনি আগের মতোই কঠোর পরিশ্রম করছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, অতীতে তার যোগাযোগের দক্ষতায় ঘাটতি ছিল, তবে বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ার অস্থিরতার মধ্যে রাজনীতিবিদদের টিকে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কটল্যান্ডের প্রতি তার গভীর টান থাকলেও তিনি স্কটিশ স্বাধীনতার চেয়ে যুক্তরাজ্যের সাথে সহযোগিতামূলক সম্পর্ককেই ব্রিটেনের ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পথ বলে মনে করেন।

