গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমে অবস্থিত সালামিনা দ্বীপে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে অন্তত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটির সবচেয়ে বড় উইকএন্ডে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দেশটির ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সালামিনা দ্বীপের কোলোনেস এবং সাতেরলি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। উদ্ধার হওয়া দুটি মৃতদেহ একটি দম্পতির বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আগুনে বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত পাঁচজনকে স্থানীয় একটি স্বাস্থ্য ক্লিনিকে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গ্রিসের প্রধান বন্দর পিরেয়াস থেকে সহজেই যাতায়াতযোগ্য সালামিনা দ্বীপে সাধারণত ১৫ আগস্টের ছুটিকে কেন্দ্র করে বিপুল সংখ্যক মানুষ বেড়াতে যান। ঠিক এমনই এক ছুটির সময়ে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৯২ জন দমকলকর্মী, ১৪টি বিমান ও হেলিকপ্টার, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং পৌরসভার পানির ট্যাঙ্কার মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তীব্র বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রয়োজনে সমুদ্রপথে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কোস্টগার্ড ও অগ্নিনির্বাপক জাহাজ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোববার সালামিনা দ্বীপে দাবানলের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি。
ইউরোপজুড়ে একের পর এক তাপপ্রবাহের কারণে খরা তীব্র রূপ নিয়েছে, পানির সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে এবং গাছপালা শুকিয়ে গেছে। এর ফলে স্পেন, ফ্রান্স এবং গ্রিসের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বনভূমি দাবানলে পুড়ছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে, তীব্র বাতাসের কারণে গ্রিসের উত্তরাঞ্চলীয় হালকিডিকি অঞ্চলের একটি রিসোর্টের কাছে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন।

