মার্বেল, স্ট্যাম্প বা ট্রেডিং কার্ডের অনেক আগে থেকেই অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের কাছে সিকাডা বা ঝিঁঝিঁ পোকা সংগ্রহের অন্যতম প্রিয় বস্তু। বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার প্রজাতির সিকাডা থাকলেও, অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে 'গ্রিনগ্রোসার' প্রজাতির সিকাডা। পরিবেশ পরামর্শক ড. লিন্ডসে পপলের মতে, সিডনি ও মেলবোর্নের মতো জনবহুল শহরের পার্ক ও বাগানের গাছপালায় এদের প্রচুর দেখা পাওয়া যায় এবং সিকাডা সংগ্রহ করা শিশুদের লোকজ ঐতিহ্যের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পতঙ্গগুলো আকারে ইরেজারের মতো এবং এদের গায়ের রঙ ও বৈচিত্র্য অনুযায়ী বিভিন্ন ডাকনাম রয়েছে। যেমন—ইয়েলো মানডে, মাস্কড ডেভিল, রেড ওয়ারিয়র, চকলেট সোলজার এবং দুর্লভ ব্লু মুন। সিকাডার জীবনচক্রের বেশিরভাগ সময় কাটে মাটির নিচে নিম্ফ বা লার্ভা অবস্থায়। তবে বসন্তের শেষে এরা বড় সংখ্যায় মাটির উপরে উঠে আসে। উত্তর আমেরিকার সিকাডার ১৭ বছরের জীবনচক্রের বিপরীতে, গ্রিনগ্রোসার সিকাডা মূলত সাত বছর অন্তর বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়, যার পরবর্তী বড় আবির্ভাবের বছর হলো ২০২৭।
নিউজিল্যান্ডের গার্ডিয়ান পাঠক ডম ইয়েটস এই পতঙ্গগুলোর প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, মাটির নিচে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর এরা যখন বেরিয়ে আসে, তখন তাদের এই আনন্দময় প্রচেষ্টাকে আমাদের প্রশংসা করা উচিত। সিকাডারা যখন পূর্ণবয়স্ক হয়, তখন তারা তাদের খোলস বা বহিঃকঙ্কাল গাছ বা বেড়ার গায়ে রেখে যায়, যা শিশুদের কাছে ছোটখাটো ট্রেজারি বা সংগ্রহের বস্তুর মতো কাজ করে।
গ্রিনগ্রোসার সিকাডার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এদের তীব্র শব্দ। ড. পপলের মতে, প্রতিটি প্রজাতির আলাদা ধ্বনি বা 'অ্যাকোস্টিক আইডেন্টিটি' থাকে। পুরুষ সিকাডারা তাদের শরীরের দুই পাশে থাকা ড্রামের মতো 'টিম্বাল' অঙ্গ ব্যবহার করে এবং ফাঁপা পেটের সাহায্যে সেই শব্দকে আরও জোরালো করে। এই শব্দ সাধারণত সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়। উত্তর কুইন্সল্যান্ডের গ্রিনগ্রোসার সিকাডাকে 'সেভেন ও'ক্লক সিকাডা' বলা হয়, কারণ ডিনারের সময় এরা নিয়মিত ডাকতে শুরু করে।
অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনগ্রোসার সিকাডা স্থলের অন্যতম উচ্চস্বরের পতঙ্গ। এদের শব্দের তীব্রতা ১২০ ডেসিবেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা মানুষের শ্রবণশক্তির জন্য যন্ত্রণাদায়ক বা ব্যথার সীমার খুব কাছাকাছি। ড. পপলের বর্ণনায়, এদের খুব কাছে থাকলে মনে হয় যেন কোনো জেট বিমান উড্ডয়ন করছে। গরমের সকালে এরা খুব ভোরে ডাকতে শুরু করে, যা অনেকের জন্য ঘুম ভাঙানিয়া হতে পারে। তবে সৌভাগ্যবশত, খুব কাছে গেলে সিকাডাগুলো সাধারণত শব্দ করা বন্ধ করে দেয়। ১৬ বছর বয়সী গার্ডিয়ান পাঠক মাতেওর মতে, এরা যেমন উচ্চস্বরে ডাকে, তেমনি দেখতেও চমৎকার, তাই এদের ভালো না বেসে উপায় নেই।

