যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা আর্কটিক অঞ্চলের এই দ্বীপটির মর্যাদা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এর আগে এই আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি হস্তগত করার বিষয়ে ট্রাম্পের কয়েক মাসের হুমকি ও টানাপোড়েনের পর এই সমঝোতা হলো।
চুক্তি অনুযায়ী, ওয়াশিংটনকে উত্তর-পশ্চিম গ্রিনল্যান্ডের প্রত্যন্ত পিটুকফিকের স্পেস বেসে তাদের কার্যক্রম আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী দক্ষিণ গ্রিনল্যান্ডের নারসারসুয়াক এবং পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের মেস্টারসভিতে প্রতিরক্ষা এলাকা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ডে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা এলাকা স্থাপন এবং সামরিক অভিযানের পরিধি বাড়ানোর ক্ষমতাও যুক্তরাষ্ট্রের থাকবে।
আর্কটিক অঞ্চলের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অবাধ বিচরণ এবং সমুদ্রতলে প্রবেশের সুযোগের কথা বলা হয়েছে। চুক্তিতে ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি পুনঃসমর্থন জানানো হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
তিন পক্ষই আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর সম্পৃক্ততা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে, যার মধ্যে পরিকল্পনা, উপস্থিতি, মহড়া এবং যৌথ গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটো এলাকা, গ্রিনল্যান্ড এবং মার্কিন মহাদেশকে রক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গোল্ডেন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো সক্ষমতাও যুক্ত থাকতে পারে।
চুক্তির প্রাক্কথনে গ্রিনল্যান্ডের আদি পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সাথে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার, বিশেষ করে তাদের ভূমি, জীবনধারা, শিকার, মৎস্য আহরণ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী ও ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

