বিশ্বের বৃহত্তম এলজিবিটিকিউ+ (LGBTQ+) ডেটিং অ্যাপ গ্রাইন্ডার (Grindr) ব্যবহারকারীদের এইচআইভি স্ট্যাটাসসহ অত্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে শেয়ার করার অভিযোগের মামলাটি ২৬ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার) বিনিময়ে সমঝোতা করতে সম্মত হয়েছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাজ্যের হাইকোর্টে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল যে অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার করেছে।
পরবর্তীতে এই ক্লাস অ্যাকশন মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হয়। মামলা পরিচালনাকারী ল ফার্ম জানিয়েছে, এই মামলায় ১১ হাজারেরও বেশি দাবিদার যুক্ত হয়েছেন। মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে গ্রাইন্ডারের জমা দেওয়া একটি নথিতে দেখা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর এই সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সমঝোতার অংশ হিসেবে কোম্পানিটিকে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড করে দুটি কিস্তিতে মোট ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। তবে গ্রাইন্ডার জানিয়েছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে তারা কোনো আইনি দায় স্বীকার করছে না।
ডেটিং অ্যাপটি জোর দিয়ে বলেছে, এই অভিযোগগুলো ২০২০ সালের আগের "ঐতিহাসিক ডেটা চর্চার" সাথে সম্পর্কিত, যখন অ্যাপটির মালিকানায় ছিল চীনা প্রতিষ্ঠান কুনলুন (Kunlun)। ২০২০ সালে নতুন মালিকদের অধীনে আসার পর ২০২২ সালে গ্রাইন্ডার শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এক বিবৃতিতে গ্রাইন্ডার জানিয়েছে, গ্রাইন্ডার এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করলেও ২০২০ সালের পূর্ববর্তী সময়ের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের কিছু ব্যবহারকারীর প্রকাশ করা ক্ষোভ এবং বিশ্বাসভঙ্গের বিষয়টি তারা স্বীকার ও অনুধাবন করছে। সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী, প্রথম ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এবং বাকি ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
দুই বছরেরও বেশি সময় আগে ল ফার্ম অস্টেন হেইস (Austen Hayes) এই মামলাটি দায়ের করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, গ্রাইন্ডার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারকারীদের জাতিগত পরিচয় এবং যৌন অভিমুখিতার মতো সংবেদনশীল তথ্য তৃতীয় পক্ষের কাছে সরবরাহ করে যুক্তরাজ্যের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘন করেছে। এই মামলার নেতৃত্বদানকারী আইনজীবী চায়া হ্যানুমানজি ২০২৪ সালের এপ্রিলে বলেছিলেন, ব্যবহারকারীদের সম্মতি ছাড়াই তাদের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করায় দাবিদাররা মারাত্মক মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের কাছে কোম্পানিটির দায়বদ্ধতা রয়েছে এবং যাদের তথ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়েছে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত।
মামলায় অ্যাপটিমাইজ (Apptimize) এবং লোকালিটিক্স (Localytics) নামের দুটি ডেটা অ্যানালিটিক্স সংস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের কাছে এই সংবেদনশীল তথ্যের অ্যাক্সেস ছিল। অভিযোগে বলা হয়, ব্যবহারকারীদের উপযোগী বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য অসংখ্য তৃতীয় পক্ষ এই তথ্য ব্যবহার করেছে। ২০১৮ সালে প্রথম জানা যায় যে গ্রাইন্ডার ব্যবহারকারীদের এইচআইভি স্ট্যাটাসসহ ব্যক্তিগত তথ্য এই দুটি প্রতিষ্ঠানের সাথে শেয়ার করছে। সে সময় গ্রাইন্ডার এই চর্চাকে শিল্পের স্বাভাবিক নিয়ম বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে তারা এইচআইভি সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করে দেয়।
এই ডেটা চর্চার কারণে নরওয়ের ডেটা সুরক্ষা ওয়াচডগ গ্রাইন্ডারকে ৫.৫ মিলিয়ন পাউন্ড জরিমানা করেছিল এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের ইনফরমেশন কমিশনারস অফিস (আইসিও) তাদের সতর্ক করেছিল। তবে গত শুক্রবার ফাইলিংয়ে কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২০ সাল থেকে তারা তাদের গোপনীয়তা রক্ষা নীতি সম্পূর্ণ আমূল পরিবর্তন করেছে যাতে তাদের সম্প্রদায়ের অনন্য চাহিদাগুলো পূরণ করা যায়। তারা দাবি করেছে, গ্রাইন্ডার ব্যবহারকারীদের জন্য একটি নিরাপদ স্থান এবং তারা স্বচ্ছতা, ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ডেটা চর্চায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।

