নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ভারী গোলাগুলি ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং একজন প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্য অনুযায়ী, নিয়ামের প্রধান বিমানবন্দর এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ সংলগ্ন প্রশাসনিক এলাকা থেকে এই শব্দগুলো ভেসে আসে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দিবাগত রাত ১২টার পর ডিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রাঙ্গণে দীর্ঘক্ষণ গোলাগুলি চলে। বিমানবন্দরটিতে একটি বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। চলতি বছর এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিমানবন্দরটিতে অস্থিরতার ঘটনা ঘটল। এছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো প্লাতু প্রশাসনিক জেলায়, যেখানে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান অবস্থিত, সেখানেও গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিমানবন্দর ও প্লাতু জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়ামের দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আরটিএন (RTN) কয়েক ঘণ্টার জন্য তাদের সম্প্রচার বন্ধ রেখেছিল, তবে পরবর্তীতে তা আবার চালু করা হয়।
এই গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট নয়। স্থানীয় আইনপ্রণেতা বানা ওগানা ইব্রাহিম এই ঘটনাকে একটি ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নাইজারের ক্ষমতাসীন সামরিক কাউন্সিল, যারা ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর দ্য সেফগার্ড অফ দ্য হোমল্যান্ড’ নামে পরিচিত, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ফেসবুকের একটি পোস্টে তারা জানায়, ‘আমাদের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বাহিনী মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ, সতর্ক এবং একে অপরের পাশে থাকি।’
উল্লেখ্য, চলতি বছর জিহাদি জঙ্গিরা দুইবার বিমানবন্দরটিতে হামলা চালিয়েছিল। এই বিমানবন্দরটি একটি কৌশলগত কেন্দ্র, যেখানে নাইজারের বিমান বাহিনীর ঘাঁটির পাশাপাশি নাইজার-বুর্কিনা ফাসো-মালি যৌথ সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরও অবস্থিত। সামরিক জান্তা শাসিত নাইজার ও তার প্রতিবেশী দেশগুলো সাহেল অঞ্চলে জিহাদিদের প্রাণঘাতী সহিংসতা মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে।

