হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের অদূরে পাহাড়ি জনপদ কেনস্কফে সশস্ত্র হামলাকারীদের তাণ্ডবে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষকে অপহরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইতিতে এটিই সবচেয়ে বড় গণ-অপহরণের ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোববারের এই ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছে কেনস্কফ এলাকা, যা এই ক্যারিবীয় দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির বিশ্বাসকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। ঘটনার পর এক গ্যাং নেতা হুমকি দিয়েছেন যে, সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনী যদি গ্যাং সদস্যদের ওপর কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তারা জিম্মিদের হত্যা করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওতে নিজেকে 'ইজো ২' পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি হাইতির জাতীয় পুলিশ পরিচালক ভ্লাদিমির প্যারাইসনকে উদ্দেশ্য করে ড্রোন ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি দেন।
গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ এগেইনস্ট ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইমের হাইতি অবজারভেটরির প্রধান রোমেইন লে কোর এই পরিস্থিতিকে সরকার ও আন্তর্জাতিক মিশনের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি জানান, গ্যাং নেতা ইজো ২ মূলত কুখ্যাত গ্যাং সদস্য জনসন আন্দ্রে বা 'ইজো'-র হয়ে কাজ করেন এবং বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন।
জাতিসংঘের ইন্টিগ্রেটেড অফিস ইন হাইতি (BINUH) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত পাঁচজন শিশু রয়েছে। কেনস্কফের মেয়র জ্যঁ মাসিলন জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে তার কাজিনসহ দুইজন সরকারি কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া গ্যাংয়ের সদস্যরা ২৫টি বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে। মেয়র আরও সতর্ক করেছেন যে, গ্যাং সদস্যরা এখনো এলাকার উপকণ্ঠে ঘোরাফেরা করছে।
লে কোরের মতে, এই হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে পুলিশের সীমিত সম্পদকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেওয়া অথবা আগামী ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সাধারণ নির্বাচনের আগে সরকারের সক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করা। হাইতির সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পোর্ট-অ-প্রিন্সের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হাইতিতে ৩,১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ১,১৮৯ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া গ্যাং সহিংসতার কারণে রেকর্ড ১৫ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

