পুলিশের পক্ষ থেকে বুধবার জানানো হয় যে, রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে এক পুরুষ ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও পুলিশ তাদের নাম প্রকাশ করেনি, তবে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া নারী হলেন লি ইং-চি। পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়, ৩১ আগস্ট একটি সাবওয়ে স্টেশনের বাইরে কিছু ব্যক্তিকে ফুল হাতে রাষ্ট্রদ্রোহী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে সরকার ও পুলিশের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তবে ট্যাং বা লি ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য গ্রেপ্তার হয়েছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানানো হয়নি।
একই অভিযোগে এর আগে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন। ২০১৯ সালের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় ৩১ আগস্ট সাবওয়ে স্টেশনে পুলিশের একটি অভিযান নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রাণহানি ঘটেছিল বলে দাবি করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে। বুম নিউজ তাদের ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ৩১ আগস্টের একটি ভিডিও প্রকাশ করেছিল, যেখানে একজন নারী সাত বছর আগের সেই ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা বলেছিলেন।
হংকং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, ২০২৪ সালের জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনার এটিই প্রথম প্রকাশ্যে আসা ঘটনা। সংগঠনটি পুলিশের কাছে ট্যাংয়ের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ব্যাখ্যা এবং তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সাথে এই গ্রেপ্তারের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছে।
২০২০ সালে বেইজিংয়ের চাপিয়ে দেওয়া নিরাপত্তা আইন এবং পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নিরাপত্তা আইনের ফলে হংকংয়ে সংবাদমাধ্যমের কাজের পরিধি সংকুচিত হয়ে এসেছে। এর আগে ২০২১ সালে অ্যাপল ডেইলি ও স্ট্যান্ড নিউজের মতো সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। অ্যাপল ডেইলির প্রতিষ্ঠাতা জিমি লাইকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সরকারি ভাষ্যমতে, হংকংয়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুরক্ষিত থাকলেও তা নিরঙ্কুশ নয়।

