ইয়েমেনের কৌশলগত মোখা বন্দরের কাছাকাছি পৌঁছেছে হুথি বিদ্রোহীরা। পাশাপাশি, লোহিত সাগরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ জুকর দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণও তারা নিয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে হুথি গোষ্ঠী বা সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে এই দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
আল-মাসদার অনলাইন ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, হুথিরা হাইস এবং আল-খাওখাহ জেলাসহ পশ্চিম তাইজ প্রদেশের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। হাইস এলাকাটি ইয়েমেনের পশ্চিমা উপকূলীয় যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ফ্রন্টলাইন হিসেবে পরিচিত, কারণ এটি হুদাইদা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাথে মোখা ও বাব আল-মান্দাবগামী সাপ্লাই রুটের সংযোগ স্থাপন করে। সরকারি বাহিনী দক্ষিণ দিকে লাহেজ প্রদেশের দিকে সরে যাওয়ায় হুথিরা মোখা বন্দরের দিকে অগ্রসর হতে সক্ষম হয়েছে।
মোখা বন্দরটি সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি বাব আল-মান্দাব প্রণালীর সবচেয়ে কাছের শহরগুলোর একটি। বাব আল-মান্দাব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ, যা সুয়েজ খালের যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর জন্য ব্যবহৃত হয়। আনাদোলু এজেন্সির মতে, হুথিরা তাইজ ও হুদাইদা প্রদেশের মধ্যকার সাপ্লাই লাইন ও সড়কগুলোতে চাপ সৃষ্টি করছে, যাতে উপকূলীয় ফ্রন্টের দিকে অগ্রসর হয়ে মোখাকে বিচ্ছিন্ন করা যায়।
আলাদাভাবে, ইয়েমেনের আল-হুদহুদ প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে যে হুথিরা জুকর দ্বীপের দখল নিয়েছে। লোহিত সাগরে বাব আল-মান্দাব প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং ওই এলাকার সামরিক গতিবিধি নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে। এর আগে দ্বীপটি প্রেসিডেন্ট লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য তারিক সালেহ পরিচালিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
হুথিদের এই অগ্রগতির পর, ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স মোখার দক্ষিণে একটি কমান্ড সেন্টার গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। হুদাইদায় সরকারি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, হাইস ফ্রন্টে নিয়োজিত সামরিক ইউনিটগুলোকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে হাইস ও আল-খাওখাহ জেলা দখলের পর হুথি যোদ্ধাদের দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আনাদোলুর ভাষ্যমতে, এই দুটি জেলা হুথিদের দখলে গেলে তারা হুদাইদা প্রদেশের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে।
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা রাজধানী সানা ও বেশ কয়েকটি প্রদেশ দখল করলে ইয়েমেনে সংঘাত শুরু হয়। এরপর ২০১৫ সালের মার্চ মাসে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। গত জুলাই মাসে চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পুনরায় লড়াই শুরু হয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর আশেপাশে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে একটি নৌ অবরোধ আরোপ করেছে, যা রিয়াদ অস্বীকার করেছে।

