চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীদের জন্য উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের (খাতা চ্যালেঞ্জ) সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে শেষ সময়ে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায় আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন সময়সূচী অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আগামী রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।
শনিবার রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনলাইনে কারিগরি ত্রুটির কারণে অনেক পরীক্ষার্থী আবেদন করতে পারেননি। তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবেদনের শেষ সময় ৭ নভেম্বর রাত ১২টার পরিবর্তে ৮ তারিখ দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী ১০ লাখ ৩৭ হাজার ৭১৭টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছেন। গত ১ নভেম্বর থেকে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। উল্লেখ্য, গত ৩১ অক্টোবর প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায়ও পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে বড় ধরনের ফলাফল পরিবর্তনের নজির রয়েছে। ওই সময় ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪ লাখ ২ হাজার ৫২ জন আবেদনের সুযোগ নিয়েছিলেন, যার ফলে ৩ হাজার ৭৯ জন নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এবং ৪ হাজার ৮৫ জন ফেল থেকে পাস করেছিলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এর পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, কারিগরি (অনলাইনে) ত্রুটির কারণে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের আবেদন প্রক্রিয়া ৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিঘ্নিত হয়। এ কারণে অনেক পরীক্ষার্থী ওই সময়ে আবেদন করতে পারেনি। পরীক্ষার্থীদের ওই বিষয়টি বিবেচনা করে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণসহ পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের শেষ সময় ৭ নভেম্বর রাত ১২টার পরিবর্তে ৮ তারিখ দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো।
এর আগে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নে বিপুলসংখ্যক পরীক্ষার্থীর ফল পরিবর্তন হয়েছিল। ওই সময় নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৩ হাজার ৭৯ শিক্ষার্থী। আর ফেল থেকে পাস করেছে ৪ হাজার ৮৫ জন। গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের। নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের।

