আইসল্যান্ডের ভোটাররা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। রবিবার জাতীয় নির্বাচনী কমিশনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই গণভোটে ৫২.৮ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবের বিপক্ষে এবং ৪৭.২ শতাংশ ভোটার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই ফলাফলের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের একটি বিভেদ সৃষ্টিকারী ইস্যুর আপাতত সমাপ্তি ঘটল। ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর তৎকালীন ইউরোসকেপটিক সরকার ইইউ-এর সাথে আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছিল, যা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে ছিল।
এই গণভোট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। যদিও আইসল্যান্ড ন্যাটোর সদস্য, তবুও সমর্থকদের মতে, ইউরোপীয় সংহতি দ্বীপটির জন্য বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারত। ২০২৪ সালে নির্বাচিত আইসল্যান্ডের বামপন্থী জোট সরকার এই গণভোটের আয়োজন করেছিল। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্ট্রুন ফ্রস্টাডোত্তির জানিয়েছেন, তিনি এই ফলাফলকে সম্মান করবেন, তবে ভবিষ্যতে এই ইস্যুটি আবারও আলোচনার টেবিলে আসার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে এমন অনেক কিছু ঘটেছে যা আগে অনুমান করা সম্ভব ছিল না, তবে বর্তমান সরকারের এজেন্ডায় এটি এখন আর শীর্ষে নেই।
আইসল্যান্ডের মোট ২৭০,০০০ ভোটারের মধ্যে ৮২ শতাংশের বেশি মানুষ এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। রাজধানী রেইকিয়াভিকই ছিল একমাত্র এলাকা যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ইইউ-তে যোগদানের পক্ষে ছিলেন। তবে দেশটির প্রভাবশালী মৎস্য শিল্প এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, ইইউ-এর সাধারণ মৎস্য নীতি কার্যকর হলে স্প্যানিশ ও ডাচ ট্রলারসহ অন্যান্য দেশের জাহাজ আইসল্যান্ডের সমুদ্রসীমায় প্রবেশের সুযোগ পাবে।
১৯৪৪ সালে ডেনমার্কের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনকারী আইসল্যান্ডের জাতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মাছ ধরার পেশা। ১৯৭০-এর দশকে ব্রিটেনের সাথে 'কড ওয়ার্স' বা মাছের যুদ্ধে জয়ী হওয়ার ইতিহাস দেশটির জনগণের কাছে অত্যন্ত গর্বের। এদিকে, ইইউ-এর জন্য এই ফলাফল কিছুটা হতাশার, কারণ আইসল্যান্ডের মতো একটি ধনী ও স্থিতিশীল দেশ খুব সহজেই জোটের সদস্য হতে পারত।
অন্যান্য অপেক্ষমাণ দেশগুলোর তুলনায় আইসল্যান্ডের যোগদানের প্রক্রিয়া দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। ক্রোয়েশিয়া সর্বশেষ ২০১৩ সালে ইইউ-তে যোগ দেয়। বর্তমানে বলকান অঞ্চলের দেশগুলো, মলদোভা এবং ইউক্রেনকে ইইউ-তে যোগদানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার করতে হচ্ছে। আইসল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি ব্রিটেনের ২০২০ সালের বিদায়ের পর ইইউ-এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারত। ভোটার ড্যানিয়েল বিয়ারকাসন, যিনি প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, বলেন যে আইসল্যান্ডের উচিত আরও এক বা দুই দশক অপেক্ষা করা, কারণ বর্তমানে দেশটি এ বিষয়ে খুব বিভক্ত।

