ভারতের লোকসভার ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এমপিকে দলত্যাগবিরোধী আইনে শোকজ নোটিশ প্রদান করেছে লোকসভা সচিবালয়। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। ২৫ আগস্ট ইস্যু করা এই নোটিশগুলোতে এমপিদের সাত দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গত ১৮ জুন সংবিধানের দশম তফসিলের আওতায় এই ২০ এমপির সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে পৃথক আবেদন করেছিলেন। ওই আবেদনের কপিগুলোই নতুন নোটিশের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালের লোকসভা সদস্যদের দলত্যাগের কারণে অযোগ্য ঘোষণা সংক্রান্ত বিধিমালার ৬ নম্বর বিধি অনুযায়ী এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমপিদের বক্তব্য পাওয়ার পর তা লোকসভার স্পিকারের বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
জানা গেছে, বিদ্রোহী এই ২০ এমপি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিয়েছেন। তবে লোকসভার সরকারি নথিতে তারা এখনো তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবেই তালিকাভুক্ত রয়েছেন। বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগে তাদের জন্য আলাদা আসন বরাদ্দ করা হলেও এনসিপিআইয়ের সাথে তাদের একীভূত হওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন।
তৃণমূল এমপি সাগরিকা ঘোষ এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের ফলেই স্পিকার এই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছেন। তার মতে, এটি কেবল সংবিধান লঙ্ঘনের বিষয় নয়, বরং সংবিধান রক্ষার লড়াই। এর আগে ২৫ আগস্ট ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই আবেদনের বিষয়ে জবাব চেয়েছিল। আদালত অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
স্পিকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে নিশ্চিত করেছেন যে ২০ এমপির সবাইকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। লোকসভা সচিবালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি অযোগ্য ঘোষণার প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ মাত্র। তবে পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এখন রাজনৈতিক মহলের নজর বিদ্রোহী এমপিদের জবাব এবং স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

