সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যালগরিদম আমার জন্য একটি নিখুঁত জানালা, যা আমার কৌতূহলী মনের সাথে খাপ খেয়ে যায়। তবে মঙ্গলবার অস্ট্রেলীয় সরকার 'মাই ফিড, মাই ওয়ে' নামে নতুন কিছু সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা চাইলে অ্যালগরিদম অপ্ট-আউট করতে পারবেন। এই ঘোষণার দিনই আমি ইনস্টাগ্রামে চীনা ট্রেনে এক মহিলার বালতিভর্তি ইল মাছ ফেলার ভিডিও দেখে মুগ্ধ হই। এই ধরনের কনটেন্ট অ্যালগরিদম ছাড়া কীভাবে খুঁজে পাব, তা নিয়ে ভাবনায় পড়ি।
সংস্কারের প্রভাব বোঝার জন্য আমি ২৪ ঘণ্টার জন্য ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিই। এই ফিচারটি ব্যবহার করলে ফিডে শুধুমাত্র ফলো করা অ্যাকাউন্টগুলোর পোস্ট ক্রমানুসারে দেখা যায়, যা অনেকটা ২০১২ সালের শুরুর দিকের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অভিজ্ঞতার মতো। আমি ২০১২ সালের নস্টালজিয়া থেকে আমার ফলো করা অ্যাকাউন্টগুলো যাচাই করি এবং পরিচিত মানুষ ছাড়া বাকি প্রায় ১০০টি অ্যাকাউন্ট আনফলো করে দিই। এর ফলে মাত্র ১০ মিনিট স্ক্রল করার পরই আমার ফিড শেষ হয়ে যায় এবং 'এন্ড অফ ফলোয়িং' বার্তা ভেসে ওঠে।
এই অভিজ্ঞতা আমাকে কিছুটা হতাশ করে তোলে। আমি বুঝতে পারি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন আর মানুষের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম নেই, বরং এটি ক্রমাগত বিভ্রান্তিতে রাখার একটি উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকার এবং বিশেষজ্ঞরা অ্যালগরিদম-চালিত কনটেন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন, কারণ এটি ব্যবহারকারীদের বিপজ্জনক ও বিভাজনমূলক কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেয়। বিশেষ করে 'ম্যানোস্ফিয়ার' বা হলিউডের ক্ষতিকর আদর্শের প্রচার নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
২৪ ঘণ্টা অ্যালগরিদম ছাড়া থাকার পর আমার মনে হয়েছে, কৃত্রিম উপায়ে তৈরি কুকুর বা আইসক্রিম খাওয়ার ভিডিও আমার মস্তিষ্ককে অসাড় করে দিচ্ছে। হয়তো অ্যালগরিদম বন্ধ করার চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে পুরোপুরি দূরে থাকাই সঠিক সমাধান হতে পারে।

