মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের চালানো হামলার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। বিবিসি-র মার্কিন অংশীদার সিবিএস-এর হাতে আসা বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে, মার্কিন ঘাঁটির রাডার জেট দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেছে, ট্রেলারগুলো দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং বিভিন্ন ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ছবিগুলো সৌদি আরব ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন সামরিক সদস্য সিবিএস-কে জানিয়েছেন, এই ক্ষয়ক্ষতির খবর আমেরিকান জনগণের কাছে সেভাবে পৌঁছায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বড় ধরনের আক্রমণের শিকার হলেও বিষয়টি আড়াল করা হচ্ছে। সেই সময়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন যে, ইরানের হামলায় ১২ জন মার্কিন কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ২ জন গুরুতর আহত।
পেন্টাগনের এক নজরদারি প্রতিবেদনেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলায় শত শত মার্কিন স্থাপনা ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ছবিগুলোর মধ্যে একটিতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার ফোর্স বেসে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান দেখা গেছে, যা রাজধানী রিয়াদ থেকে প্রায় ৬২ মাইল (১০০ কিমি) দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এর আগেও একই ধরনের বিমান ধ্বংসের ছবি বিবিসি যাচাই করেছিল। ই-৩ বিমানগুলো সাধারণত দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।
কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিং ও ক্যাম্প আরিফজানেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া গেছে। ক্যাম্প বুয়েরিংয়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত ট্রেলার ও তাঁবুর মতো কাঠামো থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। এছাড়া ক্যাম্প আরিফজানে চারতলা একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো ব্রায়ান কাটুলিস বলেন, এই ছবিগুলো প্রমাণ করে যে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল না।
পেন্টাগনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলায় শত শত ভবন ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধের শুরুর দিক থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার (২.৮ বিলিয়ন পাউন্ড)। সামগ্রিকভাবে, এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার (২৪.৭ বিলিয়ন পাউন্ড) ব্যয় করেছে। সিবিও উল্লেখ করেছে যে, কেবল একটি ই-৩ বিমানের দামই ৫০০ মিলিয়ন ডলার এবং যুদ্ধে হারানো সরঞ্জামের মোট আনুমানিক খরচ ১.৯ বিলিয়ন ডলার (১.৪ বিলিয়ন পাউন্ড)।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের তথ্যমতে, ই-৩ বিমানের মতো সরঞ্জামের ক্ষতি অপূরণীয়, কারণ এগুলো এখন আর উৎপাদনে নেই এবং আধুনিক ই-৭ বিমান দিয়ে এগুলো প্রতিস্থাপন করতে হবে। কাটুলিস সতর্ক করে বলেন, এই ক্ষতি কেবল আর্থিক নয়, বরং মার্কিন সামরিক সক্ষমতাকেও দুর্বল করে দিয়েছে। এশিয়া থেকে সামরিক সম্পদ মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়ায় এশিয়ায় মার্কিন মিত্ররা এখন চীনের কাছে বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান নিয়মিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ গত মঙ্গলবার তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পকে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সামরিক পদক্ষেপ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে। একই দিনে বিদায়ী রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথকে অভিশংসনের প্রচেষ্টার ঘোষণা দিয়েছেন।

