ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি পুনরায় খোলার পদক্ষেপ নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই ইসলামাবাদ সমঝোতা অনুযায়ী তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে। বুধবার তেহরানে হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসেম নাইমের সঙ্গে বৈঠকের সময় গালিবাফ এ মন্তব্য করেন। ইরানের আইএসএনএ সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, তিনি জোর দিয়ে বলেন যে আমেরিকানদের তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে, যাতে হরমুজ প্রণালী খোলার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
গালিবাফ আরও জানান, ইরান কূটনীতিকে প্রত্যাখ্যান করে না, তবে আলোচনার প্রক্রিয়াকে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান বৃহত্তর সংগ্রামের একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সংঘাত থেকে সরে আসা পরাজয়ের শামিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইসলামাবাদ সমঝোতার প্রথম শর্ত ছিল ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা। গালিবাফের মতে, ওয়াশিংটন শুরুতে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা।
গত ১৮ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদ সমঝোতায় স্বাক্ষর করে। এই সমঝোতায় শত্রুতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরবর্তী আলোচনার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ওয়াশিংটন তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন হরমুজ প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বা চলাচলকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির সঙ্গে যুক্ত করেছে ইরান।
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান করিডোর হিসেবে পরিচিত। তেহরান এখনো এই জলপথে নৌচলাচলের ওপর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তি এবং ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করা। আগস্টের শেষদিকে ওমানের সঙ্গে সামুদ্রিক ট্রানজিট নিয়ে আলোচনার কথা জানালেও, ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন যে এসব আলোচনার অর্থ এই নয় যে প্রণালীটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে।

