যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সত্ত্বেও স্বাগতিক দেশ হিসেবে জাতিসংঘের নিয়ম মেনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচিসহ দেশটির একটি মূল প্রতিনিধি দলকে ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, প্রতিনিধি দলটি গত বছরের তুলনায় ছোট হবে এবং তাদের ওপর কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য থাকবে। এছাড়া, তাদের বিলাসপণ্য বা অন্যান্য পণ্য কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। অতীতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানি প্রতিনিধি দলের চলাচলের পথ জাতিসংঘের সদর দপ্তর, ইরানের মিশন এবং জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছিল।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত চলছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছিল।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত আন্তর্জাতিকীকরণের অভিযোগে গত বছরের মতো এবারও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। এর ফলে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেওয়া হয়নি। তবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বৃহস্পতিবার ১৫২ ভোটের বিপরীতে তিন ভোটে মাহমুদ আব্বাসকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অধিবেশনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন এই পদক্ষেপকে 'অযৌক্তিক' বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, এটি বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার পরিপন্থী। ১৯৪৭ সালের জাতিসংঘ সদর দপ্তর চুক্তি অনুযায়ী সাধারণত বিদেশি কূটনীতিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও, নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির কারণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারে বলে ওয়াশিংটন দাবি করে আসছে।

