ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ওয়াশিংটনের বর্তমান ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ এমন একটি পরিস্থিতি যা ইরানের কাছে নতুন কিছু নয় এবং এটি কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, তা তেহরান ভালোভাবেই জানে। রবিবার তেহরানে ইরানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা খোমেনির মাজারে এক পরিদর্শনের সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আরাঘচি দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেটিকে ‘অর্থনৈতিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, তা আসলে ওয়াশিংটনের আগের নীতিগুলোরই পুনরাবৃত্তি মাত্র। তিনি উল্লেখ করেন যে, এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ‘সামরিক অভিযান’ এবং হামলার হুমকি দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা সেই পুরনো পরিকল্পনার দিকেই ফিরে এসেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তি দেন যে, সামরিক হামলার মতো কঠোর হুমকি থেকে সরে এসে ফের অর্থনৈতিক চাপের পুরনো পথে ফিরে আসার অর্থ হলো—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো কার্যকর পথ খুঁজে পাচ্ছে না। তিনি বলেন, “মহান ইরানি জনগণের মোকাবিলায় তারা অন্য কোনো সমাধান চিন্তা করতে পারছে না, তাই বারবার একই পুরনো পরিকল্পনা সামনে আনছে।”
আরাঘচি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এটি বোঝা যে, ইরানের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ এবং ন্যায়বিচার ও মর্যাদার ভিত্তিতে সমাধান খোঁজা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা নেই।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তার এই নীতিকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ এবং নজিরবিহীন বিচ্ছিন্নকরণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র জুন মাসে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল, যার লক্ষ্য ছিল ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া শত্রুতার অবসান ঘটানো এবং চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া। তবে সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বর্তমানে আলোচনা স্থবির হয়ে আছে।

