ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন যে, তার দেশ কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে না। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট এমন এক পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে চেয়েছেন যাকে তিনি 'যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যবর্তী' অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, এই সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ইরানের কর্মকর্তারা প্রায় প্রতিদিন আলোচনা করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য হলো এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো, যা ইরানের নীতি ও মূল্যবোধকে অক্ষুণ্ণ রাখবে এবং একই সঙ্গে শত্রুদের নতুন কোনো আক্রমণের চিন্তা থেকে বিরত রাখবে। তার মতে, যুদ্ধ কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং লড়াই পুনরায় শুরু হওয়ার দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা দেশটির অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অর্থনৈতিক প্রভাবের বিষয়ে সতর্ক করে প্রেসিডেন্ট বলেন, নতুন করে সংঘাতের হুমকি বিদ্যমান থাকলে দেশে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই ইরানের শক্তি বজায় রেখে যুক্তির মাধ্যমে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রেসিডেন্ট। তিনি দাবি করেন, এই চুক্তিতে এমন কোনো বিধান নেই যা আত্মসমর্পণ বা তেহরানকে কোনো ছাড় দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে। গত জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া শত্রুতার অবসান ঘটানো এবং চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া। তবে হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল সংক্রান্ত ব্যবস্থা এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের বিরোধের কারণে আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।

