ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে একটি প্রস্তাব রয়েছে এবং ইরান জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে প্রস্তুত। গত শুক্রবার 'ফেস দ্য নেশন উইথ মার্গারেট ব্রেনান'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে সরাসরি সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বর্তমানে গভীর অবিশ্বাসের পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, আলোচনার সময়ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর একের পর এক হামলা চালিয়েছে এবং নিষেধাজ্ঞা বাড়িয়েছে। এ কারণেই ট্রাম্পের সাথে মুখোমুখি বৈঠকে বসা কঠিন বলে মনে করেন তিনি। পেজেশকিয়ান বলেন, ওয়াশিংটন যদি তাদের বর্তমান নীতি পরিবর্তন করে এবং লিখিত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তবেই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তিনি আরও বলেন, যদি এই বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছায়, তবে যেদিন তারা এটি গ্রহণ করবেন, সেদিন থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থাকা সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ (MOU) অনুযায়ী যদি কাজ করা হয়, তবে ইরান ও অন্য দেশগুলো তা মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, গ্রীষ্মকালে এই সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী, যারা ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল এবং ইরান তার জবাবে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য দাবি করছে যে, হরমুজ প্রণালীর প্রবেশপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকা উচিত নয় এবং ওমানি জলসীমা দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর ইরান যেন কোনো টোল আরোপ না করে। ইরান পাল্টা দাবি করেছে যে, জাহাজগুলোকে অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে এবং অনুমোদিত রুট অনুসরণ করতে হবে।
পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে পেজেশকিয়ান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান এখন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দেবে। তিনি দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে আগ্রহী নয়, কারণ ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এটি 'হারাম' বা নিষিদ্ধ। তিনি আরও বলেন, পরিদর্শকরা যদি আসতে চান, তবে আলোচনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে পেজেশকিয়ান জানান, তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ। তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবে নিশ্চিত করেন যে, খামেনির বড় কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই এবং অতীতে পাওয়া আঘাতগুলোও সেরে গেছে। এছাড়া দেশটির কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় ছয় সদস্যের একটি সমন্বিত দল কাজ করছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে তারা কোনো আশ্রয়কেন্দ্রে ছিলেন না, বরং দেশ পরিচালনা করছিলেন।

