ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ যোগ না দেওয়ার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই শনিবার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে জানিয়েছেন, যদি কোনো প্রতিবেশী দেশ ওয়াশিংটনের এই অর্থনৈতিক অভিযানে অংশ নেয়, তবে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
রেজাই বলেন, ইরান যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে চায় না, কিন্তু যদি আশেপাশের দেশগুলো আমেরিকার সঙ্গে এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে যোগ দেয়, তবে ইরান তাদের স্বার্থে আঘাত হানতে দ্বিধা করবে না। তিনি আরও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রচারণায় সহযোগিতা করে, তবে পারস্য উপসাগর বা হরমোজ প্রণালী দিয়ে এক ফোঁটা তেলও বের হতে দেওয়া হবে না। এমনকি উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য সব তেল রপ্তানির রুটগুলোও ইরান লক্ষ্যবস্তু করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপের’ অংশ হিসেবে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় রেজাই বলেন, ট্রাম্প যদি কোনো পদক্ষেপ নেন, তবে ইরানও ভূমিকম্পের মতো শক্তিশালী জবাব দেবে। তিনি দাবি করেন, হরমোজ প্রণালী বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং ওয়াশিংটন তার আচরণ সংশোধন না করা পর্যন্ত তা পুনরায় খোলা হবে না।
রেজাইয়ের মতে, পারস্য উপসাগরের উপকূলরেখার ৫০ শতাংশেরও বেশি ইরানের অধীনে, তাই হরমোজ প্রণালী ব্যবস্থাপনার অধিকার তাদেরই। তিনি আরও বলেন, ইরান বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের অবসান চায়। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে, কারণ জুন মাসে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এবং হরমোজ প্রণালীতে চলাচল নিয়ে বিরোধের জেরে দুই দেশের আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।

