অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত কালান্দিয়া ট্রেনিং সেন্টার ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক দখলের পর বিশ্ব সম্প্রদায়কে "অবিলম্বে এবং জোরালোভাবে" পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য নিয়োজিত জাতিসংঘের সংস্থা আনরোয়া (UNRWA)।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী জোরপূর্বক কালান্দিয়া ট্রেনিং সেন্টারে প্রবেশ করে। এ সময় অন্তত চারটি সাঁজোয়া যান এবং ৫০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি নিরাপত্তা কর্মী ওই কমপ্লেক্সে ঢোকেন। ঘটনার সময় সেখানে আনরোয়ার প্রায় ২০ জন কর্মী উপস্থিত ছিলেন। জাতিসংঘের কোনো স্থাপনায় তাদের অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর এমন প্রবেশকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি।
এর আগে মঙ্গলবার সকালেই ইসরায়েল এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এই ঘটনার পর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, জেরুজালেম পৌরসভা কাফর আকাব এলাকায় একটি নতুন শিক্ষামূলক ও সামাজিক কমপ্লেক্স গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে, যা হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দার উপকারে আসবে। তাদের দাবি, ১৯৩৭ সাল থেকে এই জমির মালিকানা ‘জিউইশ ন্যাশনাল ফান্ড’-এর কাছে রয়েছে এবং এই প্রকল্পের জন্য জমিটি জেরুজালেম পৌরসভাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে এখানে নতুন স্কুল, মসজিদ, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ইসরায়েল জানিয়েছে।
ইসরায়েলের অভিযোগ, মালিকানার অধিকার না থাকা সত্ত্বেও আনরোয়া কয়েক দশক ধরে এই জমিটি বেড়া দিয়ে ঘিরে রেখেছিল। এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি হিসেবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে পাস হওয়া একটি আইনের কথা উল্লেখ করেছে, যার মাধ্যমে ইসরায়েলে আনরোয়ার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।
তবে আনরোয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কালান্দিয়া ট্রেনিং সেন্টারটি জাতিসংঘের একটি স্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
এদিকে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে জরুরি বৈঠকে বসার আহ্বান জানিয়েছে। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম এবং কালান্দিয়ায় জাতিসংঘের স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ বন্ধ করতে "বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত ও ব্যবস্থা" নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ (Wafa)-র বরাত দিয়ে প্রেসিডেন্সি জানায়, কালান্দিয়ায় আনরোয়ার স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির জাতিসংঘের এই স্থাপনায় প্রবেশ করেছিলেন। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সেবা অব্যাহত রাখতে এই স্থাপনাগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে তারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়মুক্তির ধারণার এক গুরুতর লঙ্ঘন।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৩৩৪-সহ জাতিসংঘের প্রাসঙ্গিক প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে বাধাগ্রস্ত করে এমন ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

