গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযান এবং সেখানে সংঘটিত গণহত্যার ওপর ভিত্তি করে নির্মিত চলচ্চিত্র 'নাজা' (NAZA) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, চলচ্চিত্রটিতে তাদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও অভিযানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে 'বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতাবিবর্জিত' চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এটিই চলচ্চিত্রটির বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।
ইসরায়েলি অস্কারজয়ী নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম এবং রাচেল জুর পরিচালিত এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারের কর্মকর্তারা বারবার সমালোচনা করে আসছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, চলচ্চিত্রটির পুরো আখ্যানই মৌলিক কিছু ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কখনো স্বাধীনভাবে হামলার লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে না। বরং লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করার কাজটি শুধুমাত্র যোগ্য এবং অনুমোদিত গোয়েন্দা কর্মকর্তারা করে থাকেন এবং হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন অপারেশনাল কমান্ডাররা। সেনাবাহিনী দাবি করেছে, চলচ্চিত্রটিতে যাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, তারা মূলত গোয়েন্দা কাজের প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি, যারা হামলার পরিকল্পনা বা অনুমোদনের বৃহত্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রযোজনায় নির্মিত 'নাজা' ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। প্রদর্শনী শেষে চলচ্চিত্রটি ২৫ মিনিট স্থায়ী স্ট্যান্ডিং ওভেশন পাওয়ার পাশাপাশি বিশেষ জুরি পুরস্কারও অর্জন করে। পুরস্কার গ্রহণকালে নির্মাতা আব্রাহাম ইসরায়েলে তাদের চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে চলা অপপ্রচার এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাধার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
চলচ্চিত্রটির নাম 'নাজা' রাখা হয়েছে ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আমান (Aman)-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে, যা বিমান হামলায় সম্ভাব্য বেসামরিক মৃত্যুর সংখ্যা নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়। তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের ছাদে তিন বছর ধরে গোপনে এই চলচ্চিত্রটির শুটিং করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের পরিচয়, কণ্ঠস্বর এবং চেহারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে ইসরায়েলি হামলায় ব্যবহৃত নজরদারি ব্যবস্থা এবং দূরপাল্লার বোমাবর্ষণ অভিযানের বিশদ বিবরণ রয়েছে। চলচ্চিত্রটির তথ্যমতে, সাক্ষাৎকার প্রদানকারীদের মধ্যে কয়েকজন এমন একটি গোপন গোয়েন্দা ইউনিটে কাজ করতেন, যারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে রিপোর্ট করতেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রেখেছে।

