জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে আঘাত হানা এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ২৭ মিনিটে (০৭:২৭ জিএমটি) কুমামোতো প্রিফেকচারে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি (জেএমএ) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৭.১ বলে রেকর্ড করেছে, যদিও ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে পরবর্তীতে এর মাত্রা ৬.৮ বলে জানিয়েছে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল কুমামোতো শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে, ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর থেকে ওই অঞ্চলে শতাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। জেএমএ সতর্ক করেছে যে, আগামী দুই থেকে তিন দিন এবং পরবর্তী এক সপ্তাহ পর্যন্ত ৭ মাত্রার তীব্রতার শক্তিশালী আফটারশক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি এই উদ্ধারকাজকে 'সময়ের বিরুদ্ধে দৌড়' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪,৬০০ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো কাশিমা এলাকার এয়ন মল, যেখানে ভবনের দ্বিতীয় তলার একাংশ ধসে পড়েছে। এয়ন মলের প্রেসিডেন্ট আকিও ইয়োশিদা জানিয়েছেন, মলের ভেতরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। মলটিতে প্রায় ২,৭০০ জন কর্মী কাজ করতেন এবং এখনো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ইয়াৎসুশিরো শহরের একটি কারখানায় দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং সেখানে আরও নয়জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে এনএইচকে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে, রাস্তাঘাট ও সেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বেশ কিছু ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন এবং ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী হিরোকো ওগাতা জানান, জীবনের ৭৫ বছরে তিনি এমন ভয়াবহ ভূমিকম্প কখনো দেখেননি। মার্কিন পর্যটক শ্যান্টেল মোহর জানান, পর্যটক বাসে থাকাকালীন সবার ফোনে ভূমিকম্পের সতর্কতা বার্তা বেজে ওঠে এবং চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তীব্র দাবদাহের মধ্যে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোয় উদ্ধারকাজ ও জীবিতদের সহায়তায় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৩০০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র পাঠানো হচ্ছে। অনেক মানুষকে বর্তমানে 'কার্ডিওপালমোনারি অ্যারেস্ট' অবস্থায় পাওয়া যাচ্ছে, যা জাপানের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে ব্যবহৃত একটি পরিভাষা।

