ডালাস কাউবয়েজের মালিক জেরি জোন্স ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বিরল ও খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ৮৩ বছর বয়সী এই মালিক স্বীকার করেছেন যে, দলটির জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তরাধিকার পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। ১৯৮৯ সালে ১৪০ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বাম ব্রাইটের কাছ থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কেনার পর থেকে জেরি জোন্স এর নেতৃত্বে রয়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি ধীরে ধীরে দলের দৈনন্দিন কার্যক্রম থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
দ্য অ্যাথলেটিক-এর সাংবাদিক জ্যাক কিফারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেরি জোন্স বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, আমার কোনো উত্তরাধিকার পরিকল্পনা নেই, একেবারেই নেই। একদিন আমি হয়তো এখানে থাকব না যে আমার মতামত দেব। যদিও জেরি জোন্স এখনো দলের মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী এবং সর্বজনীন মুখ হিসেবে রয়েছেন, তবে ধীরে ধীরে নেতৃত্বের ভার তার ছেলে স্টিফেন জোন্সের ওপর ন্যস্ত হচ্ছে।
স্টিফেন জোন্স তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে কাউবয়েজ সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন। তিনি আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছর কলেজ ফুটবল খেলার পর তেল ও গ্যাস শিল্পে ক্যারিয়ার ছেড়ে দলের কার্যক্রমে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) এবং প্লেয়ার পার্সোনেলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের ফুটবল ও ব্যবসায়িক দিকগুলোতে তিনি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন এবং ড্রাফট রুমেও তার সরব উপস্থিতি থাকে।
২০১৪ সালের এনএফএল ড্রাফট চলাকালীন জেরি ও স্টিফেনের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল। জেরি জোন্স টেক্সাস এঅ্যান্ডএম-এর বিতর্কিত কিন্তু প্রতিভাবান কোয়ার্টারব্যাক জনি ম্যানজিয়েলকে দলে নিতে চেয়েছিলেন। তবে স্টিফেন জোন্স শেষ পর্যন্ত অফেন্সিভ গার্ড জ্যাক মার্টিনকে বেছে নেওয়ার জন্য তার বাবাকে প্রভাবিত করেন। সেই রাতে জেরি জোন্স তাকে বলেছিলেন, তুমি যদি খুশি হও তবে আশা করি খুশি থাকবে। মাঝারী মানের সিদ্ধান্ত নিয়ে জীবনে বিশেষ কিছু করা যায় না।
জেরি জোন্স পরে তার ছেলের কাছে ক্ষমা চাইলেও, এই সিদ্ধান্তের কারণে তিনি বেশ কয়েক মাস অস্বস্তিতে ছিলেন। তবে পরবর্তীতে জনি ম্যানজিয়েল এবং জ্যাক মার্টিনের ক্যারিয়ার স্টিফেন জোন্সের সিদ্ধান্তের সঠিকতা প্রমাণ করে। ম্যানজিয়েল ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনসের হয়ে মাত্র দুটি মৌসুম খেলেছিলেন, অন্যদিকে জ্যাক মার্টিন নয়বার অল-প্রো নির্বাচিত হয়েছেন।

