সুইজারল্যান্ডের বার্ন ক্যান্টনের কান্ডারস্টেগ গ্রামের বাসিন্দারা বর্তমানে এক গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গ্রামের ওপরের দিকে অবস্থিত 'স্পিৎজে স্তেই' নামের একটি বিশালাকার পাথুরে গঠন যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধসটি গত বছর পার্শ্ববর্তী ব্লাটেন গ্রাম ধ্বংসকারী বিপর্যয়ের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে।
কান্ডারস্টেগের ১,৩০০ বাসিন্দা আল্পসের চিরচেনা মনোরম পরিবেশের মধ্যে বসবাস করেন। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট উচ্চ তাপমাত্রায় হিমবাহ এবং পারমাফ্রস্ট—যা পাহাড়ের মাটিকে আঠার মতো আটকে রাখে—গলতে শুরু করায় এই অঞ্চলে ভূমিধসের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে লোচেনটাল উপত্যকায় বিশাল পরিমাণ পাথর ও বরফ ধসে ব্লাটেন গ্রাম কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গিয়েছিল।
জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক ঝুঁকি বিষয়ক অধ্যাপক মার্কাস স্টফেল জানান, পাহাড়ের ঢালে থাকা বরফ গলে যাওয়ার ফলে তা পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। তিনি বলেন, এই বরফ মূলত পাহাড়ের জন্য সিমেন্টের মতো কাজ করে, যা গলে যাওয়ার কারণে ঢালগুলো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে।
গ্রামের বাসিন্দা ব্রিজিট জুনি জানান, তারা এই ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন তবে আতঙ্কিত নন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ সব ধরনের সতর্কতা গ্রহণ করেছে, তবে প্রকৃতির ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ নেই। আরেক বাসিন্দা রুডলফ ইসলারের মতে, ব্লাটেনের পরিস্থিতির সাথে তাদের গ্রামের পরিস্থিতির পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরেই পাহাড় থেকে পাথর পড়তে দেখা গেছে, তবে মূল সমস্যাটি এখন বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও তাপমাত্রা বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পিৎজে স্তেইয়ের প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন ঘনমিটার পাথর ধসে পড়লে তা বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তবে গ্রামটিকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে স্থানান্তর পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুরো অংশটি একবারে ধসে পড়ার চেয়ে ছোট ছোট অংশে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনাই বেশি।
গ্রিনপিস সুইজারল্যান্ডের জলবায়ু ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নাথান সোলোথুরনম্যান সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভূমিধস বা তুষারধসের ঘটনা আরও বাড়বে। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে হয়তো এমন সময় আসবে যখন কিছু উপত্যকা বা গ্রাম বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে অথবা অবকাঠামো রক্ষার ব্যয় এতটাই বেড়ে যাবে যে সেখানে টিকে থাকা আর সম্ভব হবে না।

