লেবাননের সেনাবাহিনী ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রচারিত সেই প্রতিবেদনকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছিল যে লেবানিজ সেনা কর্মকর্তারা দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করছেন। এই দাবিগুলোকে সম্পূর্ণ 'বানোয়াট' আখ্যা দিয়ে সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে যে, এটি সামরিক বাহিনী এবং এর নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার একটি পরিকল্পিত অপচেষ্টা।
বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের মিশন এবং অবস্থান নিয়ে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক দাবিগুলো ভিত্তিহীন। বাহিনীটি জোর দিয়ে বলেছে যে, তাদের সদস্যরা জাতীয় দায়িত্ববোধ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় অবিচল রয়েছেন এবং যেকোনো ধরনের বাহ্যিক হিসাব-নিকাশ বা বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, লেবানন যখন অত্যন্ত নাজুক এবং সংবেদনশীল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদন প্রচার করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর মতে, এটি মূলত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি এবং জনগণের আস্থা দুর্বল করার একটি গুরুতর প্রচারণা। তবে, এই ধরনের অপপ্রচার বাহিনীর সংহতি বা দায়িত্ব পালনে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছে তারা। সেনাবাহিনী সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল হওয়ার এবং গুজবে কান না দিয়ে কেবল অফিসিয়াল সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছে।
ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার 'কান' (KAN)-এর এক প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে এই বিবৃতি আসে। সেই প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছিল যে, হিজবুল্লাহর ফিরে আসার আশঙ্কায় লেবানিজ কর্মকর্তারা ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিরোধিতা করছেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যমটি আরও দাবি করে যে, নিরাপত্তা জোনের কিছু এলাকায় লেবানিজ সেনাবাহিনীর কার্যক্রমে ইসরায়েল অসন্তুষ্ট এবং সেখানে হিজবুল্লাহর সদস্যরা এখনো অবস্থান করছে।
এদিকে, দক্ষিণ লেবাননে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত এবং বুধবার ভোর পর্যন্ত নাবাতিন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত ছিল, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর ছোড়া দুটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোনের জবাবে তারা হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই গত ২৬ জুন বৈরুত ও তেল আবিবের মধ্যে স্বাক্ষরিত নিরাপত্তা কাঠামোর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। এই চুক্তিতে দখলকৃত লেবানিজ এলাকা থেকে ইসরায়েলের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার, লেবানিজ সেনাবাহিনীর মোতায়েন এবং হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। লেবানিজ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় ৪,০০০-এর বেশি মানুষ নিহত, ১২,০০০-এর বেশি আহত এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

