লাইবেরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় বুধবার জানিয়েছে, দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জিউয়েল হাওয়ার্ড-টেলরের বিরুদ্ধে মাদক পাচার, অর্থ পাচার এবং অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। একটি আন্তঃদেশীয় মাদক চক্রের সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জিউয়েল হাওয়ার্ড-টেলর ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত লাইবেরিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, রবার্টস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে লাইবেরিয়া ত্যাগ করার সময় তাকে থামানো হয় এবং এরপর লাইবেরিয়া জাতীয় পুলিশ সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, জিউয়েল হাওয়ার্ড-টেলর লাইবেরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট চার্লস টেলরের স্ত্রী ছিলেন। চার্লস টেলর সিয়েরা লিওনে নৃশংসতায় মদদ দেওয়ার দায়ে একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালতে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
এই মাদক চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সরকার তিনজন বিদেশির বিরুদ্ধেও অনুপস্থিতিতে (ইন অ্যাবসেন্টিয়া) অভিযোগ গঠন করেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার নাগরিক নিকোলাই ইভানসিক ও মিহোভিল ভ্রোভাক এবং ইউক্রেনের নাগরিক তারা জাদেরিকো। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের খুঁজে বের করতে এবং গ্রেপ্তার করতে সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি লাইবেরিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রায় ৩৩৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের টন টন কোকেন জব্দ করা হয়। ওই ঘটনায় দেশটির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছিল। তবে বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিউয়েল হাওয়ার্ড-টেলরের বিরুদ্ধে আনা এই মামলার সাথে আগের সেই মাদক উদ্ধারের ঘটনার কোনো সংযোগ নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিম আফ্রিকা দক্ষিণ আমেরিকা থেকে ইউরোপে কোকেন পাচারের একটি প্রধান ট্রানজিট রুট হয়ে উঠেছে। পাচারকারীরা এই অঞ্চলের দুর্বল সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং শিথিল আইন প্রয়োগের সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে।

