লিথুয়ানিয়ার প্রধানমন্ত্রী মিনদুগাস সিঙ্কেভিসিয়াস বিবিসির নিউজনাইট অনুষ্ঠানে জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকির মুখে তার দেশ জরুরি স্থানান্তর বা ইভাকুয়েশন পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে। তবে তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন যে, কোনো আক্রমণের মুখে লিথুয়ানিয়া আত্মসমর্পণ করবে না বরং তারা লড়াই করবে।
প্রধানমন্ত্রী সিঙ্কেভিসিয়াস বলেন, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশসহ রাশিয়ার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে নাগরিকরা সবসময় হুমকির মধ্যে বোধ করছেন। তিনি জানান, দেশটিকে নিয়মিত ভিত্তিতে না হলেও বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট হুমকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কোনো আক্রমণ হলে লিথুয়ানিয়া পাল্টা জবাব দেবে এবং লড়াই চালিয়ে যাবে বলে তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন পরিস্থিতির জন্য তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি উদাহরণ হিসেবে তিনি বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকদের শহর থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং যানজট এড়ানোর কৌশলের কথা উল্লেখ করেন। তিনি যোগ করেন, অনেক পরিকল্পনা জনসমক্ষে আলোচনা করা হয় না।
ন্যাটোর সদস্য দেশ লিথুয়ানিয়া রাশিয়ার এক্সক্লেভ কালিনিনগ্রাদের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নেয়। গত সপ্তাহে ন্যাটোর যুদ্ধবিমান লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এছাড়া দেশটিতে গত এক বছরে বেলারুশের মদদপুষ্ট বেশ কিছু 'হাইব্রিড আক্রমণ' হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার রাতে ভিলনিয়াস বিমানবন্দরে বেলুন সদৃশ বস্তুর কারণে ফ্লাইট ব্যাহত হওয়ার ঘটনাকেও হাইব্রিড আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে রাষ্ট্রপতির প্রধান উপদেষ্টা দেইভিদাস মাতুলিওনিস মঙ্গলবার জানিয়েছেন, বস্তুগুলো বেলুন কি না তা এখনও নিশ্চিত নয়।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় জার্মানি ২০২৩ সালে লিথুয়ানিয়ায় একটি যুদ্ধপ্রস্তুত ব্রিগেড স্থায়ীভাবে মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ৫,০০০ সেনা ও বেসামরিক কর্মী নিয়ে এই ব্রিগেড কার্যকর হওয়ার কথা। যদিও স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগে ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন বাধ্যতামূলক নিয়োগের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া ন্যাটোর তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত লিথুয়ানিয়ায় ৫,০০০-এর বেশি ন্যাটো সেনা মোতায়েন রয়েছে।
লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্তাস কাউনাস জানিয়েছেন, গত সপ্তাহের ড্রোনটি বেলারুশের দিক থেকে এসেছিল। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষাসচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বলেন, লিথুয়ানিয়া ও ইতালীয় বাহিনীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে ন্যাটোর আকাশসীমা রক্ষা পেয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ন্যাটোর প্রতিটি ইঞ্চি এলাকা রক্ষায় তারা ঐক্যবদ্ধ। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে মস্কো কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে ইউরোপজুড়ে সামরিক ড্রোনের অনুপ্রবেশ সাধারণ ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মে মাসে ভিলনিয়াসে ড্রোন সতর্কতার কারণে বাসিন্দাদের আশ্রয় নিতে হয়েছিল এবং ফ্লাইট ও ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এছাড়া এস্তোনিয়া ও লাটভিয়াতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে প্রবেশ করায় ন্যাটোর যুদ্ধবিমান একাধিকবার সক্রিয় হয়েছে। ইউক্রেন এই ঘটনার জন্য রাশিয়ার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্রযুক্তিকে দায়ী করেছে। লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়া ২০০৪ সালে ন্যাটোর সদস্যপদ লাভ করে এবং ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানেই সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হয়।

