২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ২০:৪৫ মিনিটে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, মাগুরা শহরের ভায়না মোড় এলাকায় কামরুল ইসলাম নামের এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্যকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে সাবেক যুবলীগ নেতা মীর আবু সাঈদের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আবু সাঈদ জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে একটি করাতকলের (স মিল) সামনে এই ঘটনা ঘটে।
घटनाর একটি অডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অডিওর বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার সময় পুলিশ সদস্য কামরুল ইসলাম সেখানে অবস্থান করছিলেন। পাশে একটি দোতলা ভবন থেকে মীর আবু সাঈদ নিচে কে বসে আছেন জানতে চাইলে কামরুল নিজের পরিচয় দেন। তবে পরিচয় পাওয়ার পরও আবু সাঈদ নিচে নেমে এসে ওই পুলিশ সদস্যকে গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে চড়-থাপ্পড় মারেন। অবশ্য পরে তিনি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কামরুলের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। পরিচয় দেওয়ার পরও একজন পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করার ঘটনাটিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মর্যাদা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখছেন অনেকে। ঘটনার পর অভিযুক্ত মীর সাঈদকে ধরতে তার বাসভবনে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের তালিকায় ১ নম্বর শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত মীর আবু সাঈদের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে। তিনি ৪১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন।
এ বিষয়ে মাগুরার তৎকালীন পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রহমান খান পিকুল বলেন, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে নানা প্রতিক্রিয়া শোনা যাচ্ছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মীর আবু সাঈদ। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর কোনো প্রমাণ নেই। তবে অডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি জানানো হলে তিনি এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

