তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এই অঞ্চলে এক নতুন নিরাপত্তা ও সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তোলার পথ সুগম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। সোমবার ইস্তাম্বুলে এই চুক্তির অধীনে গঠিত স্ট্র্যাটেজিক পলিটিক্যাল অ্যান্ড ডিফেন্স কমিটির প্রথম বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। ফিদান আশা প্রকাশ করেন যে, এই জোটের ফলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর হবে।
হাকান ফিদান বলেন, এই জোটের মাধ্যমে আমরা পর্যায়ক্রমে অঞ্চলে আরও বেশি স্থিতিশীলতা দেখতে পাব এবং অনিশ্চয়তা হ্রাস পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব এবং পাকিস্তানকে একটি ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা কাঠামোর আওতায় এনেছে এই চুক্তি। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, মক্কা প্রতিরক্ষা জোটটি মূলত সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে আঙ্কারা এটিকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার একটি ভিত্তি হিসেবে দেখছে। নবগঠিত কমিটি এই জোটের রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের পক্ষ থেকে তুরস্ককে কৌশলগত হুমকি হিসেবে চিত্রিত করার সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়ে ফিদানের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। জবাবে তিনি নেতানিয়াহুর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, নেতানিয়াহু, যিনি মানবতা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং নিরাপত্তার সাধারণ শত্রুতে পরিণত হয়েছেন, তিনি এমন কোনো ব্যক্তি নন যাকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে অবশ্যই নেতানিয়াহুর এই হুমকির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে।

