মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলে একটি বৌদ্ধ বিহারে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের সবাই বয়স্ক এবং তারা সেখানে ধর্মীয় আচার পালনের জন্য জড়ো হয়েছিলেন বলে স্থানীয় উদ্ধারকর্মী ও বিরোধীদের সূত্রে জানা গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টার দিকে (জিএমটি ০২:৩০) মান্দালয়ের প্রায় ৭০ কিলোমিটার (৪৭ মাইল) পশ্চিমে মধ্য সাগাইং অঞ্চলের মিয়াউং শহরে এই হামলা চালানো হয়। বৌদ্ধদের পবিত্র লেন্ট উপলক্ষে ধ্যান বা মেডিটেশন কর্মসূচিতে অংশ নিতে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
এক স্থানীয় উদ্ধারকর্মী বিবিসি বার্মিজকে জানিয়েছেন, বিহারটিতে পরপর দুইবার বিমান হামলা চালানো হয়। নিহতদের সবাই বয়স্ক মানুষ এবং হামলায় বেশ কয়েকজন বৌদ্ধ ভিক্ষুও আহত হয়েছেন।
গণতন্ত্রপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘নওয়ে ও মিয়াউং’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ এবং ৩ জন নারী রয়েছেন। তাদের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন একই গ্রামের বাসিন্দা এবং বাকি নয়জন পার্শ্ববর্তী একটি এলাকার।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দ্বিতীয় এক বিদ্রোহী যোদ্ধা জানান, প্রথম হামলার পর যখন তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই দ্বিতীয় দফায় বোমা হামলা চালায় সামরিক বিমান।
এ হামলার বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ২০২১ সালে অং সান সু চি-কে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটিতে গৃহযুদ্ধ চলছে এবং বর্তমানে সেখানে সামরিক শাসন জারি রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ উঠলেও জান্তা বাহিনী দাবি করে আসছে যে তারা কেবল বৈধ লক্ষ্যবস্তুতেই হামলা চালায়।

